নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুরের আনন্দপুর থানা এলাকায় বেআইনি চোলাই মদ এবং মাদক চাষের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ ও আবগারি দপ্তর। গত সাতদিন ধরে লাগাতার অভিযান চালানোর পর মঙ্গলবারও এই সক্রিয়তা বজায় ছিল। আনন্দপুর থানার পুলিশ ও আবগারি দপ্তরের যৌথ দল জোড়াকেউদি, গোপালবাঁধ, কাকটা এবং রোলাপাটের মতো গ্রামগুলোতে হানা দিয়ে বিপুল পরিমাণ চোলাই মদ এবং তা তৈরির উপকরণ নষ্ট করে দেয়। এই অভিযানে এখন পর্যন্ত দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে ওই অঞ্চলের চোলাই কারবারিদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আবগারি সূত্র জানাচ্ছে যে, এলাকার পরিবেশ সুস্থ রাখতে এই ধরণের তল্লাশি আগামী দিনেও নিয়মিত চলবে।

গত শনিবারের অভিযানে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। পুলিশ আধিকারিকরা যখন বিভিন্ন গ্রামের চোলাইয়ের ঠেকে হানা দিচ্ছিলেন, তখন তাঁরা দেখতে পান যে আনাজ চাষের আড়ালে অত্যন্ত গোপনে বেআইনি পোস্ত চাষ করা হচ্ছে। সবজি বাগানের ছোট ছোট অংশে পোস্ত গাছ লাগানো হয়েছিল যাতে বাইরে থেকে তা বোঝা না যায়। পুলিশের নজরে আসতেই তৎক্ষণাৎ ওই সমস্ত পোস্ত গাছ উপড়ে ফেলে জমি নষ্ট করে দেওয়া হয়। পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিক জানান, আবগারি দপ্তরের সঙ্গে মিলে এই মাদক চাষ রুখতে তাঁরা কড়া পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই চাষ কোনো বড় মাদক পাচার চক্রের অংশ নয়, বরং নিজেদের খাওয়ার জন্য চাষিরা এই পোস্ত চাষ করেছিলেন। যদিও আইনত অনুমতি ছাড়া পোস্ত চাষ দণ্ডনীয় অপরাধ হওয়ায় প্রশাসন কোনো নমনীয়তা দেখায়নি।

মঙ্গলবার পুনরায় আনন্দপুর থানা লাগোয়া গ্রামগুলোতে পুলিশের বিশেষ দল হানা দেয়। বেশ কিছু নতুন চোলাই মদের ঠেক গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং কয়েকশো লিটার মদ ও সরঞ্জাম নষ্ট করা হয়। আনন্দপুর থানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আনন্দপুর থানা এলাকায় কোনো ধরণের বেআইনি কার্যকলাপ বা মাদক সংক্রান্ত কারবার বরদাস্ত করা হবে না। এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং যুবসমাজকে নেশার কবল থেকে বাঁচাতে এই লাগাতার অভিযানকে আরও জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এই সক্রিয় ভূমিকায় এলাকার সচেতন নাগরিকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
