নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পাঁচখুরী-১ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পাঁচখুরী সাতগেড়িয়া হাইস্কুলে (সাঁওতালি মিডিয়াম) গ্রামীণ অর্থনীতির বুনিয়াদ শক্ত করতে এক বিশেষ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভার মূল বিষয়বস্তু ছিল ‘গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণী সম্পদের ভূমিকা’। গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের আয়ের উৎস হিসেবে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালনের গুরুত্ব কতটা এবং কীভাবে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে প্রাণী পালন করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করা যায়, সেই লক্ষ্যেই এই সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। এলাকার বহু মানুষ এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা এই সভায় উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা সভায় উপস্থিত বিশেষজ্ঞ ও আধিকারিকরা গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রাণী সম্পদ পালনের বহুমুখী সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে চাষবাসের পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের মাধ্যম হিসেবে পশুপালন কীভাবে কৃষকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষা প্রদান করে, তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। সভায় উপস্থিত গ্রামবাসীদের জানানো হয় যে, উন্নত জাতের পশুপালন এবং সময়মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধার সদ্ব্যবহার করলে গ্রামের মানুষের আর্থিক অবস্থার আমূল পরিবর্তন সম্ভব। এর পাশাপাশি প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের পক্ষ থেকে বর্তমানে যে সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ও সরকারি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, সেই সম্পর্কেও সাধারণ মানুষকে অবগত করা হয়।

সাঁওতালি মিডিয়াম স্কুলে আয়োজিত এই সভার মাধ্যমে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছে প্রাণী পালনের নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পশুখাদ্য তৈরি থেকে শুরু করে টিকাকরণ এবং প্রাণীদের বিভিন্ন রোগব্যাধি মোকাবিলায় সরকারি সাহায্যের আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা। পাঁচখুরী সাতগেড়িয়া এলাকার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাঁদের মতে, এই ধরণের আলোচনা সভার ফলে প্রান্তিক মানুষেরা পশুপালনের সঠিক পদ্ধতি শিখতে পারবেন, যা ভবিষ্যতে গ্রামের সামগ্রিক উন্নয়নের পথ প্রশস্ত করবে এবং সাধারণ মানুষকে স্বাবলম্বী করে তুলবে।
