প্রতিনিধি: শালবনী: কে টিভি নিউজ: ২৭ফেব্রুয়ারী: এইসবে বঙ্গ থেকে বিদায় নিয়েছে শীত। এখনও হাল্কা শীতের আমেজ অনুভূত বঙ্গবাসীর। বিশেষ করে জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মানুষ এখনও অনুভব করছেন হাল্কা শীতের আমেজ। তারই মধ্যে বসন্ত আগত। আর বসন্তের সময় গোটা জঙ্গলমহলের জঙ্গল জুড়ে ঝড়তে শুরু করেছে গাছের পাতা। ক্রমশই ফাঁকা হচ্ছে গভীর অরণ্য। বারবার বনদপ্তরের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন করে বলা হয়, এই সময়ে যাতে জঙ্গলে আগুন না লাগানোর বার্তা। জঙ্গলে আগুন লাগালে তার ক্ষতিকারক দিক গুলো সম্পর্কে অবগত করা হয় মানুষকে। কিন্তু তারপরেও দেখা যায় একাংশ অসচেতন মানুষ দিব্যি নিয়ম করে এই সময় জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দেয়। বনদপ্তরের বারংবার নিষেধ সত্ত্বেও জঙ্গলের ভারসাম্য নষ্ট করতে সামান্যটুকুও ভাবছে না একাংশ। যার ফলে জঙ্গলের প্রাণীকুল থেকে কীট পতঙ্গ ধ্বংস হচ্ছে প্রতিবছরই।

বুধবার এরকমই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটলো পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী ব্লকের ভাদুতলা- পীড়াকাটা রাজ্য সড়কের বুড়িশোলের জঙ্গলে। বুধবার সন্ধ্যে নাগাদ কে কারা বুড়িশোলের জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দেয়। বাতাস দেওয়ার আগুন ক্রমশই ছড়িয়ে পড়ে গোটা জঙ্গল জুড়ে। ধুঁয়ায় ঢেকে যায় রাজ্য সড়ক। রাস্তার দুধারেই দাউদাউ করে আগুনে পুড়তে থাকে বন। ফলে এই সড়ক দিয়ে পেরোতে বেগ পেতে হয় যানবাহনকে।

প্রসঙ্গত, প্রতিবছরই এই সময়ে জঙ্গলে গাছ থেকে ঝরে পড়ে শুকনো পাতা। আর এই শুকনো পাতায় আগুন লাগলে তা মুহুর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্রই। ফলে মৃত্যু ঘটে জঙ্গলের বন্যপ্রাণী ও কীটপতঙ্গ। মেদিনীপুর জেলার পরিবেশ কর্মীরা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বন দপ্তরকে জঙ্গলে আগুন লাগানোর ঘটনায় আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রয়োজনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনও করতে হবে। নাহলে জঙ্গলে আগুন লাগানোর ঘটনা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে।
