নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম জেলার জঙ্গলমহলে বসন্তের শুরুতেই আগুনের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। সোমবার ঝাড়গ্রাম ব্লকের কলাবনী রেঞ্জের অন্তর্গত জঙ্গলে হঠাৎই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আগুইবনী গ্রাম পঞ্চায়েতের ডিডি বাকশোল এলাকায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। জঙ্গলের আগুন বসতবাড়ির দিকে ধেয়ে আসতে দেখে তা নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারালেন কল্পনা মাহাতো নামে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুকনা শাল পাতার মাধ্যমে জঙ্গলের আগুন দ্রুত লোকালয়ের দিকে ছড়িয়ে পড়ছিল। নিজের বাড়ি ও সম্পত্তি বাঁচাতে ওই বৃদ্ধা একাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা তাঁকে গ্রাস করে নেয়।

এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ এবং দমকলের একটি ইঞ্জিন। দমকল কর্মীরা দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ওই বৃদ্ধাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দগ্ধ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হাওয়ার দাপট বেশি থাকায় আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল, যার ফলে বৃদ্ধা নিজেকে সামলাতে পারেননি।

মৃতার পরিবারের পক্ষ থেকে বন দপ্তরের বিরুদ্ধে গাফিলতির গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, জঙ্গলে আগুন লাগার খবর অনেক আগেই বন দপ্তরকে জানানো হয়েছিল। তাঁদের অভিযোগ, বন দপ্তর যদি সময়মতো পদক্ষেপ নিত এবং দ্রুত আগুন নেভানোর ব্যবস্থা করত, তাহলে হয়তো আজ এই প্রাণহানি ঘটত না। অন্যদিকে, কলাবনী রেঞ্জের জঙ্গলে আগুন লাগার খবর পেয়ে বন কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেছেন। জঙ্গলমহলে এই ধরণের অগ্নিকাণ্ড রোধে বন দপ্তরের আরও সক্রিয় হওয়া উচিত বলে দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
