নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রামের সাধু রামচাঁদ মুর্মু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন হেনস্থার ঘটনায় জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গড়শালবানি এলাকার লোধাশুলির ব্যস্ত রাস্তায় সাঁওতালি বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের ওই ছাত্রী যখন পরীক্ষা শেষে তাঁর বাবার সঙ্গে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন, তখনই এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগ, বাইক নিয়ে পিছু ধাওয়া করা এক যুবক চলন্ত অবস্থাতেই ছাত্রীর চুল টেনে ধরে তাঁকে জোরপূর্বক সিঁদুর পরানোর চেষ্টা করে। এই আকস্মিক হামলায় ও ধস্তাধস্তিতে চলন্ত বাইকটি বড়সড় দুর্ঘটনার কবলে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত গ্রাম পুলিশ ও পথচারীদের তৎপরতায় অভিযুক্তকে আটক করা সম্ভব হলেও, জনবহুল রাস্তায় দিনের আলোয় এমন ঘটনা নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।

ঘটনার গভীরে গিয়ে জানা গিয়েছে যে, অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে ছাত্রীর পূর্বপরিচয় ছিল। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরও ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীকে বিয়ের জন্য মানসিক চাপ দিচ্ছিল এবং উত্যক্ত করছিল। ভুক্তভোগী ছাত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, তিনি এখন কেবল পড়াশোনাতেই মনোযোগ দিতে চান, কিন্তু ওই যুবকের ক্রমাগত হেনস্থা তাঁর শিক্ষা ও ব্যক্তিগত জীবনে আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে। এমনকি ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, ইতিপূর্বে সতর্ক করা সত্ত্বেও ছেলেটি তাঁর মেয়েকে বিরক্ত করা বন্ধ করেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চন্দ্রদীপা ঘোষ এই ঘটনার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত ঘটনাস্থলে একটি প্রতিনিধি দল পাঠান।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলাশাসকের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য যে, শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তাটি অত্যন্ত নির্জন এবং বেশ কিছু এলাকা জঙ্গলঘেরা। সেই কারণে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর ও যাতায়াতের পথে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা বা স্ট্রিট লাইটিং এবং নিয়মিত পুলিশি টহলের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রশাসনের কাছে বারবার লিখিত আবেদন জানিয়েছিলেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য এমন সংবেদনশীল আর্জি জানানো সত্ত্বেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

দীর্ঘদিন ধরে লাইটিং ও নিরাপত্তার অভাব কেন রয়ে গেল, তা নিয়ে বর্তমানে জেলাশাসকের দপ্তরের ওপর দায়বদ্ধতার প্রশ্ন উঠছে। প্রশাসনের এই শ্লথগতি ও উদাসীনতার কারণেই দুষ্কৃতীরা এমন সাহস দেখাচ্ছে বলে শিক্ষানুরাগী মহলের ধারণা। ঝাড়গ্রামের মতো এলাকায় ছাত্রীদের শিক্ষা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে যেখানে জেলা প্রশাসনের অধিকতর তৎপর হওয়া প্রয়োজন ছিল, সেখানে এই পরিকাঠামোগত অবহেলা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করলেও, সাধারণ মানুষের দাবি—কেবল ধরপাকড় নয়, বরং অন্ধকার রাস্তাগুলোতে আলোর ব্যবস্থা করা এবং ছাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অবিলম্বে প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।
