নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর-মেদিনীপুর রাজ্য সড়কে পথ দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা বজায় রইল। গত কয়েক দিনের ভয়াবহ স্মৃতি কাটিয়ে ওঠার আগেই শুক্রবার কেশপুর ব্লকের সাড়ে ১২ মাইল এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা প্রাণ কেড়ে নিল এক ব্যক্তির। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, কেশপুর থেকে মেদিনীপুরগামী একটি দ্রুতগতির লরি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি স্কুটিকে সরাসরি পিষ্ট করে দেয়। এই ভয়াবহ সংঘর্ষে স্কুটি চালক শেখ সৌরভের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত যুবকের বাড়ি কেশপুর ব্লকের ১১ নম্বর অঞ্চলে। দুর্ঘটনায় স্কুটিতে থাকা আরও এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘাতক লরিটির তাণ্ডব কেবল স্কুটিকে ধাক্কা মেরেই থেমে থাকেনি। নিয়ন্ত্রণহীন লরিটি রাস্তার পাশে থাকা শেখ সাহা আলমের একটি বাড়ি ও সংলগ্ন দোকানে সজোরে ঢুকে পড়ে। লরির ধাক্কায় বাড়িটির একাংশ কার্যত ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্ঘটনার সময় বাড়ির সদস্যরা ভেতরে থাকলেও অলৌকিকভাবে তাঁরা প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন, তবে লরিটি এখনও সেই ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির ভেতরেই আটকে রয়েছে। ঘটনার পরপরই লরির চালক ও খালাসি এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। খবর পেয়ে কেশপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে এবং পলাতক চালকের সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে এই একই রাজ্য সড়কে এটি তৃতীয় বড় দুর্ঘটনা। গত সোমবার শালবনীর ভাদুতলায় ট্রাক্টরের ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যু এবং মঙ্গলবার মাইতিরগোলায় লরি ও মারুতির সংঘর্ষে কেশপুর গার্লস হাইস্কুলের এক শিক্ষিকা ও চালকের মৃত্যুতে জেলাজুড়ে এমনিতেই শোকের পরিবেশ ছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবারের এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা প্রশাসনের নজরদারি এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন যে, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও রাজ্য সড়কে গতিরোধক বা পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা না করায় একের পর এক তাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। পরপর এই মৃত্যুমিছিলে কেশপুর-মেদিনীপুর রাজ্য সড়ক এখন সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের অপর নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
