নিজস্ব সংবাদদাতা : – ঝাড়গ্রাম, মেদিনীপুর-সহ রাজ্যের একাধিক জেলায় গত কয়েকদিন ধরে এক অদ্ভুত ও রহস্যময় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। লোকমুখে রটে যাওয়া বিভিন্ন কথা থেকে জানা যাচ্ছে যে, রাত গভীর হলেই একদল দুষ্কৃতী গ্রামগুলোতে হানা দিচ্ছে এবং বাড়ির দরজায় টোকা দিচ্ছে। কেউ দরজা খুললেই দুষ্কৃতীরা ভেতরে ঢুকে ভোটার কার্ড ও আধার কার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়িয়ে দিচ্ছে বলে গুজব ছড়িয়েছে। শুধু তাই নয়, বাড়ি থেকে টাকা, সোনা ও গয়না লুঠ করার খবরও মুখে মুখে ঘুরছে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে। এই ধরণের খবরের কোনো প্রশাসনিক ভিত্তি না থাকলেও, আতঙ্কে সাধারণ মানুষ এখন দিশেহারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম জেলার একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের নিরাপত্তার খাতিরে বাঁশ ও লাঠি হাতে দল বেঁধে রাতভর পাহারা দিচ্ছেন। গ্রামের মোড়ে মোড়ে মানুষের এই সতর্ক অবস্থান জঙ্গলমহলের পুরনো ও ভয়াল স্মৃতিকে নতুন করে উসকে দিচ্ছে।

গুজব ও আতঙ্কের এই আবহে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে, কিন্তু রাতে গ্রামজুড়ে হইচই এবং নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। অনেক পরীক্ষার্থীই মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে এবং অভিভাবকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে যে, এই অস্থির পরিস্থিতি সন্তানদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন যে, কিছু অসাধু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। যদিও কয়েকটি বাড়িতে জানলার কাঁচ ভাঙা বা দরজা ধাক্কানোর মতো বিছিন্ন ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু নথিপত্র পুড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পুলিশের হাতে আসেনি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গুজবকে বড় আকার দেওয়া হচ্ছে।

আতঙ্ক মোকাবিলায় মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ ইতিমধ্যেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছে। দেখা গিয়েছে একাধিক গ্রামে মাইকিং প্রচার করতে।সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, জেলায় ডাকাতি বা নথিপত্র নষ্ট করার কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো জমা পড়েনি। পুলিশ আধিকারিকরা গ্রামবাসীদের আশ্বস্ত করছেন যে তাঁদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা তৎপর রয়েছে। প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলেও, সাধারণ মানুষের মনের আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি। এখন দেখার, পুলিশের এই সচেতনতামূলক অভিযান এবং টহলদারি সাধারণ মানুষের মধ্যে হারানো আত্মবিশ্বাস কতটা ফিরিয়ে আনতে পারে।
