নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় রক্তদান আন্দোলনে এক নতুন এবং ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। জেলার মুমূর্ষু রোগীদের রক্তের অভাব মেটাতে এক অভিনব পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ (DPSC)। এই উদ্যোগের অধীনে জেলার ৫১টি চক্র (Circle) এবং খোদ ডিপিএসসি দপ্তর মিলিয়ে বছরের ৫২টি সপ্তাহে মোট ৫২টি ধারাবাহিক রক্তদান শিবির আয়োজন করা হবে। মঙ্গলবার মেদিনীপুর শহরে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে এই বিশাল কর্মসূচির কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের পক্ষ থেকে এই ধরণের একটি দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগের দাবি জানানো হচ্ছিল, যা অবশেষে বাস্তবের রূপ পেতে চলেছে।

জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান অনিমেষ দে ব্যক্তিগতভাবে এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে জেলার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকেও তিনি এমন একটি সংকল্পের কথা জানিয়েছিলেন। এবার সেই পরিকল্পনাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে তিনি জানান যে, রক্তের সংকট মেটাতে শিক্ষক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। অনিমেষ দে বলেন যে, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ কেবল শিক্ষা প্রসারে নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনেও দায়বদ্ধ। প্রতিটি চক্রের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং শিক্ষা আধিকারিকদের যৌথ প্রচেষ্টায় এই ৫২টি শিবির সফল করা হবে। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগকে সম্মান জানিয়ে মেদিনীপুর ডিস্ট্রিক্ট ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামের পক্ষ থেকে এদিন তাঁকে সংগঠনের জেলা উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে ইতিমধ্য়েই কোমর বেঁধে নেমেছে একাধিক শিক্ষক সংগঠন এবং জেলার প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকারা। সূত্রের খবর, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি চক্রে রক্তদান শিবিরের কাজ শুরু হয়ে গেছে। সারা বছর ধরে নির্দিষ্ট সূচি মেনে এই শিবিরগুলো পরিচালিত হবে, যাতে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে রক্তের অপচয় না হয় এবং বছরভর ব্লাড ব্যাংকগুলোতে রক্ত সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। ব্লাড ডোনার্স ফোরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ডিপিএসসির এই উদ্যোগ রাজ্যজুড়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। প্রশাসনের এই সক্রিয়তা রক্তদান আন্দোলনে যুক্ত কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
