Tuesday, April 14, 2026
HomeJhargram২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন ! ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও 'জিরো...

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন ! ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গলমহলের দুই গুরুত্বপূর্ণ জেলা—পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এবারের নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ভয়-মুক্ত, হিংসা-মুক্ত এবং প্ররোচনা-হীন। কোনোভাবেই ছাপ্পা ভোট বা বুথ জ্যামিং বরদাস্ত করা হবে না।

নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। এই পরিস্থিতিতে জঙ্গলমহলের দুই গুরুত্বপূর্ণ জেলা—পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে প্রশাসন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এবারের নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ ভয়-মুক্ত, হিংসা-মুক্ত এবং প্ররোচনা-হীন। কোনোভাবেই ছাপ্পা ভোট বা বুথ জ্যামিং বরদাস্ত করা হবে না।

পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘P 10’ কর্মসূচি ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর দাপট

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ভোটারদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং স্বচ্ছ নির্বাচন করতে ‘P 10’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে কমিশন। সোমবার মেদিনীপুরের জেলাশাসক (DEO), পুলিশ সুপার এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর কো-অর্ডিনেটর কেশপুরে যৌথভাবে এরিয়া ডমিনেশন বা টহলদারি চালান।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা: জেলায় ইতিমধ্যেই ৯৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছেছে। ধাপে ধাপে মোট ২৬৯ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে। পলাতক ও দাগী আসামিদের ধরতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে; ইতিমধ্যেই ৭৫ শতাংশ দাগী অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

নজরদারি: জেলার ১৫টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৪৩৩৩টি বুথের মধ্যে ৫২৪টিকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই বুথগুলিতে দুটি করে ক্যামেরা এবং সিসিটিভি-র মাধ্যমে কড়া নজরদারি চালানো হবে।

ভোটার তথ্য: জেলায় মোট ৩৭,৭০,৭৯৪ জন ভোটার ১২২ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। এর মধ্যে ৪০৮টি বুথ সম্পূর্ণভাবে মহিলারা পরিচালনা করবেন।

ঝাড়গ্রামে ৭টি মূল স্তম্ভে মেগা সমন্বয় সভা

ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা এবং বন্যপ্রাণী সতর্কতাকে প্রাধান্য দিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় সভা করেছে। জঙ্গলমহলের ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনা করে এখানে ৭টি বিশেষ দিকের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বন্যপ্রাণী সুরক্ষা: ঝাড়গ্রামে হাতির উপদ্রব রুখতে বন দপ্তরের পক্ষ থেকে ৩-স্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। ২৫টি যানবাহন ও ৩০০ জন বনকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ‘বান্দরভুলা’-তে একটি বিশেষ হাতি পর্যবেক্ষণ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে যাতে ভোটের দিন ভোটার বা কর্মীদের কোনো সমস্যার মুখে পড়তে না হয়।

হেল্পলাইন ও কন্ট্রোল রুম: সাধারণ মানুষের জন্য ২৪ ঘণ্টা চালু থাকছে টোল-ফ্রি নম্বর ‘১৯৫০’। এছাড়া একটি সমন্বিত জেলা কন্ট্রোল রুম (৯৩৩২৭৮৯৪৮৯) খোলা হয়েছে।

চিকিৎসা পরিষেবা: জরুরি অবস্থার জন্য প্রতিটি বুথকে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কোনো কর্মী কোনোভাবেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। কমিশনের এই কঠোর অবস্থান এবং প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি শেষ পর্যন্ত ভোটগ্রহণের দিন কতটা ফলপ্রসূ হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজ্যবাসী।

RELATED ARTICLES

Most Popular