নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগের মুহূর্তে অরণ্যশহর ও সংলগ্ন এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপের চেয়েও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে বন্যপ্রাণের আতঙ্ক। ৯ নম্বর রাজ্য সড়কে একটি দলছুট দাঁতাল হাতির অবিরাম দাপাদাপিতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গতকাল রাত থেকে শুরু করে আজ সকাল পর্যন্ত রাস্তার ওপর খাবারের সন্ধানে হাতির এই অনবরত আনাগোনা পথচলতি মানুষ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

আগামীকাল এই এলাকায় ভোটগ্রহণ। এই মুহূর্তে ভোটকর্মীরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে নিজ নিজ গন্তব্য ও বুথের দিকে রওনা দিচ্ছেন। কিন্তু রাজ্য সড়কের ওপর দাঁতাল হাতির এই দৌরাত্ম্য তাঁদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার পথে এক বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ভোটকর্মীই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বুথে পৌঁছানো নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। বন্যপ্রাণী উপদ্রুত এই অঞ্চলে নির্বাচনের কাজে আসা কর্মীদের মধ্যে এখন শুধুই আতঙ্কের পরিবেশ।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগেভাগেই জানানো হয়েছিল যে, জঙ্গলমহলের এই বন্যপ্রাণী উপদ্রুত এলাকাগুলোতে নির্বাচনের সময় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু ভোটের ঠিক আগের ভোরে হাতির এই তাণ্ডব সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বন দপ্তরের নজরদারি কোথায় এবং কেন হাতিটিকে লোকালয় বা প্রধান রাস্তা থেকে সরানো গেল না, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মানুষ ও ভোটকর্মীরা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ দ্রুত কার্যকর করার দাবি উঠেছে। ভোটকর্মীদের সুরক্ষিতভাবে বুথে পৌঁছানো এবং আগামীকাল ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদান নিশ্চিত করতে বন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন প্রশাসনের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে হাতির এই দাপট নির্বাচনের স্বাভাবিক ছন্দে বড়সড় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
