নিজস্ব সংবাদদাতা : ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসন তাদের প্রস্তুতিকে চূড়ান্ত রূপ দিতে একটি উচ্চপর্যায়ের যৌথ সমন্বয় সভা সম্পন্ন করেছে। ১৩ই এপ্রিল ২০২৬ তারিখে জেলা শাসক কার্যালয়ে আয়োজিত এই বৈঠকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) সমন্বয়কারী, বন আধিকারিক এবং স্বাস্থ্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। ঝাড়গ্রামের বিশেষ ভৌগোলিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৭টি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনে জেলার প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সাধারণ ভোটারদের মনে সাহস জোগাতে এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রতিদিন রুট মার্চ ও টহলদারি চালানো হচ্ছে। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে জেলার সংবেদনশীল ও অতি-সংবেদনশীল বুথগুলোর ওপর, যেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য ১৯৫০ টোল-ফ্রি নম্বর এবং একটি ২৪x৭ ইন্টিগ্রেটেড কন্ট্রোল রুম (৯৩৩২৭৮৯৪৮৯) চালু করা হয়েছে।
বন্যপ্রাণী ও বনাঞ্চল সুরক্ষায় অভিনব ব্যবস্থা
ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে হাতির গতিবিধি বিবেচনা করে বন দপ্তরের পক্ষ থেকে ৩-স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৫টি যানবাহন এবং ৩০০ জন বনকর্মী ও ট্র্যাকার সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবেন। ‘বান্দরভুলা’-তে একটি বিশেষ হাতি পর্যবেক্ষণ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে যা মূল কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। ভোটের ৩ দিন আগে থেকেই সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক হ্যান্ডবিল বিতরণ করা হবে যাতে হাতি বা অন্য বন্যপ্রাণীর কারণে কোনো বিপত্তি না ঘটে।

চিকিৎসা পরিষেবা ও কমিশনের কড়া নীতি
প্রতিটি বুথকে নিকটতম স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে যাতে যেকোনো আপদকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। নির্বাচন কমিশন এবারের ভোটকে একটি ‘মডেল নির্বাচন’ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ভয়-মুক্ত, হিংসা-মুক্ত এবং ছাপ্পা বিহীন ভোট নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। এছাড়া কোনো সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মী রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জঙ্গলমহলের এই জেলায় একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর ভোট উপহার দিতে এখন সব দপ্তর একযোগে কাজ করছে।
