নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরে ভোটদান সেরে বাড়ি ফেরার পথে এক মহিলা ভোটারের আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কেশপুর ব্লকের ১২ নম্বর সরিষাখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ২২৫ নম্বর দীঘা বুথের এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল প্রার্থী, অন্যদিকে বিজেপি বিষয়টিকে দুর্ভাগ্যজনক মৃত্যু হিসেবেই দেখছে।
মৃত ভোটারের নাম ইসরাতন বিবি (৫৬), তাঁর বাড়ি সীমাগেরিয়া গ্রামে। মৃতার স্বামী লবাব জান আলী জানান, সকালবেলা তিনি স্ত্রীকে নিয়ে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। ভোট দিয়ে ফেরার পথে হঠাৎই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। লবাব জান আলীর দাবি, তাঁদের পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে কেবল তাঁর স্ত্রীর নামই ভোটার তালিকায় ছিল, বাকি চারজনের নাম বাদ পড়ে গিয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে ইসরাতন বিবি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন।

খবর পেয়েই মৃত ভোটারের বাড়িতে যান কেশপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শিউলি সাহা। তিনি মৃতার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের তীব্র সমালোচনা করেন। শিউলি সাহা অভিযোগ করেন, “ভোটার তালিকা থেকে পরিবারের চারজনের নাম বাদ দিয়ে দেওয়ায় ওই মহিলা দীর্ঘ দিন ধরে আতঙ্কে ও চিন্তায় ছিলেন। এই মৃত্যুর জন্য নির্বাচন কমিশনই দায়ী।” তিনি সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দিকে আঙুল তুলে এই পরিস্থিতির জন্য প্রশাসনিক গাফিলতিকে দায়ী করেছেন।
তৃণমূলের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কেশপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু সামন্ত। তিনি পাল্টা কটাক্ষ করে বলেন, “মৃত্যু সবসময়ই দুঃখজনক, কিন্তু মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। ওই বৃদ্ধা শারীরিক অসুস্থতার কারণেই মারা গেছেন। এর সাথে ভোটার তালিকার বা কমিশনের কোনো যোগসূত্র নেই।” বিজেপি শিবিরের দাবি, পরাজয় নিশ্চিত জেনে তৃণমূল এখন মৃত্যু নিয়ে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তেজনাও তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোটদানের উৎসবের মাঝে এমন একটি বিয়োগান্তক ঘটনা কেশপুরের সাধারণ মানুষের মন ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো বড় গোলমাল না হয়, তার জন্য এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
