নিজস্ব সংবাদদাতা : শনিবার খড়্গপুর থেকে বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা মেদিনীপুর শহরে এসে পৌঁছালে জেলা রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এদিন দুপুরে খড়্গপুর থেকে রওনা দিয়ে যাত্রাটি মেদিনীপুর শহরে প্রবেশ করে এবং শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। এই কর্মসূচিতে অংশ নেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শহরের গান্ধী মূর্তির পাদদেশে আয়োজিত একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। শমীক ভট্টাচার্য দাবি করেন যে, বর্তমান সরকার আদিবাসী, শ্রমিক, কৃষক এবং প্রান্তিক মানুষের স্বার্থবিরোধী। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, সাধারণ মানুষ এই সরকারকে বিসর্জন দেওয়ার জন্য মনস্থির করে ফেলেছে। সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি আসন্ন নির্বাচনে পরিবর্তনের ব্যাপারে আশাপ্রকাশ করেন।
মেদিনীপুর শহর থেকে এই পরিবর্তন যাত্রা কেশপুর বাজারের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে আদিবাসী বিপ্লবী তিলকা মাঝির মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান ওড়িশার জাজপুরের বিজেপি সাংসদ রবীন্দ্রনাথ বেহেরা এবং ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তন্ময় দাস। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অজয় কৃষ্ণ প্রধান সহ বহু কর্মী-সমর্থক। শহিদ বিপ্লবীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করা হয়। অজয় প্রধান জানান যে, এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের কাছে পরিবর্তনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া এবং সংগঠনকে বুথ স্তরে শক্তিশালী করা। তিনি আরও দাবি করেন যে, কেশপুর ব্লকের প্রায় ১০০টি বুথে ইতিমধ্যেই বিজেপির দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে এবং আগামী দিনে প্রতিটি বাড়িতে গিয়ে জনসংযোগ কর্মসূচি চালানো হবে। পুরো কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিজেপির এই পরিবর্তন যাত্রাকে কেন্দ্র করে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা যুব তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির এই কর্মসূচিকে ‘বিষ যাত্রা’ বলে কটাক্ষ করা হয়। এই বিষয়ে কেশপুরের তৃণমূল ব্লক সভাপতি প্র্রদ্যুৎ পাঁজা বলেন,”এই রাস্তা দিয়ে যেভাবে টাটা মোটর্স, অম্বুজা সিমেন্টের গাড়ি নিজেদের অ্যাড করতে করতে যায় সেরকম একটা কোনও গাড়ি গেল আমরা দেখতে পেলাম। তবে সেখানে আমরা কেশপুরের কোনও বিজেপি কর্মী বা বিজেপি নেতাকে দেখতে পাইনি।” নেতৃত্ব মেদিনীপুর শহর ছাড়ার পরেই যুব তৃণমূল কর্মীরা ময়দানে নামেন। শহরের মনীষীদের অপমান করার প্রতিবাদে তাঁরা ‘শহর শুদ্ধিকরণ’ কর্মসূচি পালন করেন। ব্রাহ্মণ ডেকে মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে এবং গঙ্গাজল ছিটিয়ে শহরের যে সমস্ত রাস্তা দিয়ে পরিবর্তন যাত্রা গিয়েছিল, সেই রাস্তাগুলো ধুয়ে দেওয়া হয়। এমনকি বিজেপির সভাস্থলে ঝাঁটা দিয়ে গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ করেন তৃণমূল কর্মীরা। সবশেষে কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের বিভিন্ন নীতির প্রতিবাদে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কুশপুতুল পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে যুব তৃণমূল নেতৃত্ব। এই দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শনিবার দিনভর মেদিনীপুর শহরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বজায় ছিল।
