Sunday, March 8, 2026
HomeWest Bengalসাঁকরাইলে হাতির তাণ্ডবে প্রাণহানি ও আতঙ্ক: বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তুঙ্গে

সাঁকরাইলে হাতির তাণ্ডবে প্রাণহানি ও আতঙ্ক: বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তুঙ্গে

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মধ্যরাতে ধানঘোরী গ্রামে হঠাৎ একটি দাঁতাল হাতি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করে। হাতিটি একটি বাড়ির খামারে ঢুকে কলা বাগান তছনছ করে দেয়। সেই সময় বাড়ির দরজার সামনে হাতিটিকে দেখতে পেয়ে প্রাণভয়ে পালাতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হন এক যুবক।

নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকে গত কয়েকদিন ধরে দলছুট একটি দাঁতাল হাতির তাণ্ডব জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। শনিবার মধ্যরাত থেকে রবিবার ভোর পর্যন্ত ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে হাতির হানায় এক মহিলার মৃত্যু এবং এক যুবক আহত হওয়ার ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার মধ্যরাতে ধানঘোরী গ্রামে হঠাৎ একটি দাঁতাল হাতি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করে। হাতিটি একটি বাড়ির খামারে ঢুকে কলা বাগান তছনছ করে দেয়। সেই সময় বাড়ির দরজার সামনে হাতিটিকে দেখতে পেয়ে প্রাণভয়ে পালাতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হন এক যুবক। শুধু ধানঘোরী নয়, ছোলাখালি সহ পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতেও হাতির ভয়ে মানুষ এখন ঘরবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছেন।

একদিকে যখন আতঙ্কে রাত কাটছে সাধারণ মানুষের, ঠিক তখনই শনিবার ভোরে সাঁকরাইল ব্লকের কুলঘাগরি গ্রাম থেকে এক মর্মান্তিক খবর আসে। ছত্রী গ্রাম পঞ্চায়েতের এই গ্রামে চাষের জমিতে কাজ করতে গিয়েছিলেন ৫৬ বছর বয়সী মিথিলা মাহাত। সেই সময় আচমকা একটি দলছুট হাতি তাঁর ওপর হামলা চালায়। হাতির হানায় ওই মহিলা গুরুতর জখম হলে স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে ভাঙ্গাগড় হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝাড়গ্রাম মর্গে পাঠিয়েছে। এই মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বনদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে যে, আগের দিন একটি হাতির দল ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি দাঁতাল হাতি দলছুট হয়ে পড়েছিল। সেই হাতিটিই বর্তমানে হাঁড়িভাঙ্গা জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এই হাতিটিই মহিলার ওপর হামলা চালিয়েছে। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে মৃতার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জানানো হয়েছে যে, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হবে। তবে বনদপ্তরের এই আশ্বাসে গ্রামবাসীরা শান্ত হতে পারছেন না। তাঁদের অভিযোগ, বারবার হাতির হানার বিষয়ে বনদপ্তরকে জানানো হলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। হাতির গতিবিধির ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং জঙ্গলমহলের এই গ্রামগুলোকে হাতিমুক্ত করার দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ।

RELATED ARTICLES

Most Popular