নিজস্ব সংবাদদাতা : মেদিনীপুর কলেজ মাঠে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার ৪৮ ঘণ্টা কেটে গেলেও মাঠ সাফাই না হওয়ার প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠল স্থানীয় রাজনীতি। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মেদিনীপুরে রোড শো করতে এসেছিলেন তৃণমূল নেত্রী, এবং তাঁর যাতায়াতের সুবিধার্থে কলেজ মাঠে একটি অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, সভা শেষ হওয়ার দুদিন পার হয়ে গেলেও মাঠ থেকে হেলিপ্যাড তৈরির বাঁশ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম সরানো হয়নি। ফলে মাঠটি বর্তমানে খেলার অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে রয়েছে, যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় খেলোয়াড় ও প্রাতঃভ্রমণকারীরা।

রবিবার সকালে এলাকায় জনসংযোগ করতে এসে এই পরিস্থিতি দেখে মেদিনীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত রীতিমতো ক্ষোভে ফেটে পড়েন। মাঠ কেন এখনও আগের অবস্থায় ফেরানো হলো না, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি মাঠের মধ্যেই বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। কেবল প্রতিবাদ জানানোই নয়, তিনি মাঠে খেলতে আসা যুবকদের সঙ্গে নিজে হাতে বাঁশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরানোর কাজে হাত লাগান। শঙ্কর গুছাইত প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে যদি পুরো মাঠ পরিষ্কার করে খেলার উপযোগী করে তোলা না হয়, তবে তিনি জেলাশাসকের দপ্তরের সামনে অবস্থানে বসবেন।

বিজেপি প্রার্থীর এই বিক্ষোভ ও সাফাই অভিযানে অংশগ্রহণের ঘটনাকে অবশ্য ‘নাটকবাজি’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। স্থানীয় তৃণমূল নেতা বুদ্ধ মণ্ডল পাল্টা জানিয়েছেন যে, এই ধরণের আচরণ না করে বিজেপি প্রার্থীর উচিত নিজের প্রচারে মন দেওয়া। তাঁর দাবি, মেদিনীপুর কলেজ মাঠের যা কিছু উন্নয়ন হয়েছে তা তৃণমূল সরকারের আমলেই হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, যদি কোনো নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ হয়ে থাকে তবে তা দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে মেদিনীপুরের রাজনৈতিক পারদ আরও কয়েক ধাপ চড়ে গেল।
