নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে এক নজিরবিহীন সমস্যার জেরে গত কাল থেকে আউটডোর বা বহিবির্ভাগ সংলগ্ন সমস্ত গেট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের আউটডোর বিভাগের সামনেই একটি বিশাল গাছের অনেক উঁচুতে তৈরি হয়েছে এক প্রকাণ্ড মৌচাক, আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে যাবতীয় বিপত্তি। হঠাৎ করে মৌমাছির দল চড়াও হওয়ায় হাসপাতালের ভেতরে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জানা গিয়েছে, মৌমাছির কামড়ে ইতিমধ্যেই একজন চিকিৎসক এবং হাসপাতালের বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর থেকেই হাসপাতালের কর্মীরা আতঙ্কে কাজ করতে পারছেন না এবং সাধারণ রোগীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ওই অংশের সমস্ত প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গতকাল রাতেই বন দপ্তর এবং দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হয়। বনকর্মী ও দমকলের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৌচাকটি সরানোর জন্য দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালান। কিন্তু মৌচাকটি গাছের অনেক উঁচুতে থাকায় এবং মৌমাছিরা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠায় শেষ পর্যন্ত সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়। রাতভর চেষ্টা চালিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় আজ সকাল থেকেও হাসপাতালের ওই চত্বরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। আউটডোরের গেট বন্ধ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বর্তমানে এই বিশাল মৌচাকটি কীভাবে নিরাপদ উপায়ে সরানো যায় এবং হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিস্থিতি কীভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, তা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন গভীর চিন্তায় রয়েছে। বন দপ্তরের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা হচ্ছে যাতে কোনো আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বা রাতে অন্য কোনো উপায়ে মৌমাছিদের সেখান থেকে সরানো যায়। আপাতত ওই এলাকাটি সাধারণ মানুষের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং চিকিৎসক ও কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যতক্ষণ না মৌমাছির উপদ্রব পুরোপুরি কমছে, ততক্ষণ রোগীদের সুরক্ষার খাতিরে আউটডোর গেট খোলা সম্ভব হবে না।
