নিজস্ব সংবাদদাতা : মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগ ‘মাতৃমা’য় এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ফের বড়সড় বির্তক ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। মৃত রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতালের ভেতরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিজনেরা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ ওই প্রসূতিকে প্রসবকালীন যন্ত্রণার কারণে মাতৃমাতে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর সকাল দশটা নাগাদ তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেন। পরিবারের দাবি, সন্তান প্রসবের পর মা এবং নবজাতক—উভয়েই দীর্ঘক্ষণ সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, প্রসবের পর ওই প্রসূতির শরীরে অস্ত্রোপচার বা কাটা ক্ষতস্থানটি দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা ঠিকমতো সেলাই করেননি।

পরিবারের লোকেদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে সেলাই না করায় এবং ক্ষতস্থানটি অবহেলায় ফেলে রাখায় রোগীর শরীর থেকে ব্যাপক হারে রক্তক্ষরণ হতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে রক্তপাতের ফলে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং অবশেষে ওইদিন রাত আনুমানিক আটটা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার খবর জানাজানি হতেই রোগীর আত্মীয়-স্বজনরা হাসপাতালের পরিষেবার ওপর ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, চিকিৎসক ও নার্সদের চূড়ান্ত উদাসীনতার কারণেই একজন সুস্থ মায়ের অকাল মৃত্যু ঘটেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও সেবিকাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন তাঁরা।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিষয়টি নিয়ে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার ও পদস্থ আধিকারিকদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে পরিবারটি। পাশাপাশি কোতোয়ালি থানাতেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগ জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। হাসপাতালের সুপার ডাক্তার ইন্দ্রনীল সেন জানিয়েছেন যে, প্রসূতি মৃত্যুর এই নির্দিষ্ট ঘটনাটি খতিয়ে দেখার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ওই কমিটি চিকিৎসার প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করে দেখবে এবং যদি কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তবে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বর্তমানে হাসপাতাল চত্বরে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।
