নিজস্ব সংবাদদাতা : মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক বাজেট বক্তৃতায় রাজ্যের যুবসমাজের স্বনির্ভরতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়ার পর, এবার সেই ভাবনাকে বাস্তবায়িত করতে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে কর্মব্যস্ততা। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার মেদিনীপুর পৌরসভার উদ্যোগে পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত হলো ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের এক বিশেষ ক্যাম্প। মেদিনীপুরের ২৫টি ওয়ার্ডের বেকার যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে দিতে এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা তাঁদের দুয়ারে পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ক্যাম্পে আবেদনকারীদের জন্য আবেদনপত্র গ্রহণ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই এবং অনলাইন রেজিস্ট্রেশনের সমস্ত প্রক্রিয়া এক ছাদের তলায় সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার শংসাপত্র ও ব্যাঙ্কের নথির মাধ্যমে সরাসরি নাম নথিভুক্ত করার সুবিধা পাওয়ায় আবেদনকারীদের আর আলাদা করে কোথাও ঘোরার প্রয়োজন হচ্ছে না।

এই বিশেষ ক্যাম্প পরিদর্শন করে মহকুমা শাসক মধুমিতা মুখার্জি জানান যে, এবারের বাজেটে যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ওপর যে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, এই ক্যাম্প তারই এক বাস্তব প্রতিফলন। তাঁর মতে, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী বেকার যুবক-যুবতীরা যারা আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছেন, অনেক সময় তাঁদের উচ্চশিক্ষা বা প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রকল্প সেই সমস্ত যুবক-যুবতীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের স্বনির্ভর করে তুলতে এক নতুন দিশা দেখাবে। অন্যদিকে, মেদিনীপুর পৌরসভার পৌরপ্রধান সৌমেন খান জানান, মুখ্যমন্ত্রীর মানবিক ভাবনাকে পাথেয় করেই এই ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডের মানুষ, বিশেষ করে যারা প্রত্যন্ত এলাকায় থাকেন, তাঁরা যেন কোনোভাবেই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই পৌরসভার মূল লক্ষ্য।

রবিবার ছুটির দিন হওয়া সত্ত্বেও মেদিনীপুর পৌরসভা চত্বরে আবেদনকারীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এক ছাদের তলায় আবেদন, যাচাই ও রেজিস্ট্রেশনের সম্পূর্ণ সুবিধা মেলায় খুশি এলাকার সাধারণ মানুষ ও যুবক-যুবতীরা। প্রশাসনের এই সক্রিয় তৎপরতা মেদিনীপুর শহর ও আশপাশের এলাকার কর্মহীন যুবকদের মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। মূলত এই ধরণের ক্যাম্পের মাধ্যমে সরকারি পরিষেবা সরাসরি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে উদ্যোগ রাজ্য সরকার নিয়েছে, মেদিনীপুরের এই কর্মসূচি তারই সার্থক প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
