নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম জেলায় মঙ্গলবার ভারত সরকারের জাতীয় তফশিলি উপজাতি কমিশনের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা পর্যায়ের পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। কমিশনের সম্মানিত সদস্য ড. আশা লাকড়া এবং শ্রী নিরুপম চাকমার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই সভায় অংশ নেন। ঝাড়গ্রাম সার্কিট হাউসে সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির প্রথম পর্বে কমিশনের সদস্যরা জেলার বিভিন্ন আদিবাসী সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসেন। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে ধর্মের কোড, ভুয়ো জাতি শংসাপত্র সমস্যা, ছাত্রীদের হস্টেল এবং আদিবাসী স্কুল সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ জানানো হলেও, প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে আদিবাসী অধ্যুষিত এই জেলায় সামগ্রিকভাবে মানুষ ভালো আছেন।

বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত আলোচনা। শবর আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের নাম এই তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয় যে, নথিপত্র থাকলে কারো নাম বাদ যাবে না। এমনকি নথিপত্র না থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ি ও অবস্থানের প্রমাণ থাকলে তাঁদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। এছাড়া জঙ্গলমহলের তফশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের নাগরিক অধিকার সুনিশ্চিত করার বিষয়েও সদস্যদের অবস্থান ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। হর্টিকালচার এবং পিডব্লিউডি-সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের আধিকারিকদের ডেকে প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও নীতিগত বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেয় কমিশন।
আলোচনা সভায় অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হিসেবে উঠে আসে এসএসসি (SSC) প্যানেলে তফশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের চাকরি বাতিলের প্রসঙ্গ। এই বিষয়ে জাতীয় এসটি কমিশনের কাছে জমা পড়া চিঠির সত্যতা যাচাই করতে কমিশন ২১ জন প্রতিনিধির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করে। যোগ্য প্রার্থীদের চাকরির নিশ্চয়তা এবং নির্দিষ্ট কোড মেনে তাঁদের নিয়োগ বজায় রাখার জোরালো দাবি জানানো হয় এই বৈঠকে। কমিশন আদিবাসী সমাজের সার্বিক উন্নয়ন এবং তাঁদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলেও, ঝাড়গ্রামের জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপারের অনুপস্থিতিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। ভবিষ্যতে এই ধরণের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সভায় সিনিয়র অফিসারদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঝাড়গ্রামের কর্মসূচি শেষে বিকেলে কমিশনের সদস্যরা পুরুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
