নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম জেলা জুড়ে রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকট এবং তার জেরে জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্কের আবহে অবশেষে মুখ খুলল জেলা প্রশাসন। গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসের অভাবে ঝাড়গ্রামের বহু নামী মিষ্টির দোকান ও রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কমার্শিয়াল সিলিন্ডারের সরবরাহ প্রায় বন্ধ থাকায় হোটেল মালিকরা কর্মীদের ছুটি দিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছিলেন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে জেলাশাসক আমজনতার উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, গ্যাসের অভাব নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

জেলাশাসক ঝাড়গ্রামের সমস্ত গ্যাস ডিলারদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে ডিলাররা দাবি করেছেন যে, গ্যাসের সামগ্রিক যোগান পর্যাপ্ত রয়েছে। প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বা প্রায়োরিটি দেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ যাতে আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই গ্যাস সিলিন্ডার হাতে পান, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের যোগানও কয়েক দিনের মধ্যে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে প্রশাসনিক স্তরে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

গ্যাস সরবরাহ নিয়ে কোনো রকম কালোবাজারি বা অনিয়ম রুখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট ফোন নম্বরও জারি করা হয়েছে, যাতে কোনো অভিযোগ থাকলে সরাসরি জানানো যায়। প্রশাসনের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে বিতরণে সমস্যা থাকলেও মজুত ভাণ্ডারে টান পড়েনি। তাই লাইনে দাঁড়িয়ে ভিড় বাড়ানো বা হুজুগে পড়ে বাড়তি বুকিং না করার জন্য এলাকাবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঝাড়গ্রামের জনজীবন ও ব্যবসা-বাণিজ্য পুনরায় ছন্দে ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
