নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম শহরে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় জনজীবন ও ব্যবসার ওপর। শহরের গ্যাসের গোডাউনগুলোর সামনে এখন সাধারণ গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। বহু মানুষ আগেভাগে টাকা দিয়ে সিলিন্ডার বুকিং করেও দিনের পর দিন অপেক্ষা করে খালি হাতে ফিরছেন। এই অনিশ্চয়তা সাধারণ মানুষের মনে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। রান্নার গ্যাস না থাকায় অনেক বাড়িতেই উনুন জ্বলা দায় হয়ে পড়েছে, আর বিকল্প ব্যবস্থার খোঁজে মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

গৃহস্থালির পাশাপাশি বাণিজ্যিক বা কমার্শিয়াল গ্যাসের সরবরাহ প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঝাড়গ্রামের খাদ্য ব্যবসা এক গভীর সংকটের মুখে। বর্তমানে শুধুমাত্র স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্র ছাড়া অন্য কোথাও কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে শহরের রেস্তোরাঁ ও হোটেল মালিকরা ব্যবসা চালাতে পারছেন না। পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় অনেক নামী রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে ঝাঁপ বন্ধ করে দিয়েছেন। কাজের অভাব দেখা দেওয়ায় রেস্তোরাঁর কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ছুটি দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামীকাল থেকে ঝাড়গ্রামের অধিকাংশ হোটেল ও রেস্তোরাঁ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যারা দৈনন্দিন প্রয়োজনে বাইরের খাবারের ওপর নির্ভরশীল, তাঁরা চরম সমস্যায় পড়বেন। শহরের ব্যবসায়ী মহলে এই নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই গ্যাস সংকট ঝাড়গ্রামের স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও পঙ্গু করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
