নিজস্ব সংবাদদাতা : জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম জেলার কলাইকুণ্ডা বিট সংলগ্ন ধারিশোল গ্রামে শনিবার এক পূর্ণবয়স্ক চিতল হরিণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। পথ ভুলে লোকালয়ে ঢুকে পড়া হরিণটিকে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করে নয়াগ্রামের গভীর জঙ্গলে মুক্ত করেছেন বন দপ্তরের কর্মীরা।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান:
১. লোকালয়ে অনুপ্রবেশ: বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কলাইকুণ্ডা রেঞ্জের ধারিশোল গ্রামে এদিন সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম হরিণটিকে লক্ষ্য করেন। জঙ্গল লাগোয়া এই এলাকায় সাধারণত বন্যপ্রাণীদের আনাগোনা থাকলেও, লোকালয়ের এত কাছে হরিণ দেখে গ্রামবাসীরা অবাক হয়ে যান।
২. কুকুরের তাড়া: স্থানীয়দের দাবি, জঙ্গল থেকে পথ ভুলে হরিণটি যখন গ্রামের কাছাকাছি আসছিল, তখন একদল বন্য কুকুর তাকে তাড়া করতে শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে হরিণটি দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে লোকালয়ের ভিতরে ঢুকে পড়ে।
৩. গ্রামবাসীদের সতর্কতা: হরিণটিকে দেখে গ্রামবাসীরা আতঙ্কিত না হয়ে সেটিকে সুরক্ষিতভাবে ধরে ফেলেন এবং দ্রুত কলাইকুণ্ডা বিট অফিসে খবর দেন। বন্যপ্রাণীটির যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে কড়া নজর রেখেছিলেন স্থানীয় যুবকরা।
৪. জঙ্গলে প্রত্যাবর্তন: খবর পেয়েই বন দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। হরিণটিকে উদ্ধার করে প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষার পর দেখা যায় সেটি সুস্থ রয়েছে। এরপর একটি খাঁচাবন্দি গাড়িতে করে সেটিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং নয়াগ্রামের গভীর জঙ্গলে নিরাপদে ছেড়ে দেওয়া হয়।

বন দপ্তরের সতর্কতা ও বার্তা:
বন আধিকারিকদের মতে, বর্তমানে প্রচণ্ড দাবদাহ ও জলের সন্ধানে অনেক সময় বন্যপ্রাণীরা জঙ্গলের সীমানা ছাড়িয়ে লোকালয়ের দিকে চলে আসে। তবে ধারিশোল গ্রামের মানুষের সচেতনতার প্রশংসা করেছেন তাঁরা। বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকলে আইন নিজের হাতে না তুলে দ্রুত বন দপ্তরে খবর দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
