নিজস্ব সংবাদদাতা : প্রচণ্ড দাবদাহ উপেক্ষা করে বিনপুরের পড়িহাটি প্রগতি সংঘ হাইস্কুল ময়দানে জনজোয়ারে ভাসলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার দুপুরে ঝাড়গ্রামের তৃণমূল প্রার্থী বীরবাহা হাঁসদার সমর্থনে আয়োজিত এই জনসভা থেকে ৫টি প্রধান প্রতিশ্রুতি বা ‘নতুন কৌশলে’ শান দিলেন তিনি।
অভিষেকের ৫টি মূল প্রতিশ্রুতি (নির্বাচনী কৌশল):
তৃণমূলের সরকার চতুর্থবার ক্ষমতায় এলে জঙ্গলমহলের মানুষের জন্য পাঁচটি প্রধান কাজ নিশ্চিত করার কথা ঘোষণা করেন অভিষেক:
১. লক্ষ্মীর ভাণ্ডার: আজীবন এই সুবিধা বজায় থাকবে।
২. বাড়ি বাড়ি পানীয় জল: আগামী ৫ বছরে কেন্দ্রীয় সাহায্য ছাড়াই প্রতিটি ঘরে পরিশ্রুত জল পৌঁছাবে।
৩. বিনামূল্যে রেশন: খাদ্যসাথী প্রকল্পের অধীনে এই পরিষেবা জারি থাকবে।
৪. সকলকে আবাসন: ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি যোগ্য নাগরিক পাকা বাড়ি পাবেন।
৫. দুয়ারে স্বাস্থ্য: প্রতিটি ব্লক ও শহরে প্রতি বছর স্বাস্থ্য শিবিরের মাধ্যমে ঘরে চিকিৎসা পৌঁছে যাবে।

“বিজেপি ফেল করা ছাত্র”— প্রার্থীর তুলনা ও আক্রমণ:
ঘরের মেয়ে বনাম বহিরাগত: বীরবাহা হাঁসদাকে ‘ঘরের মেয়ে’ এবং নরেন হাঁসদার যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বর্ণনা করে অভিষেক বলেন, “অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী হাওড়ার লোক। গত নির্বাচনে দেড় লক্ষ ভোটে হেরেছিলেন। কোনো ছাত্র বারবার ফেল করলে স্কুল তাকে সুযোগ দেয় না, আপনারাও দেবেন না।”
রিপোর্ট কার্ডের চ্যালেঞ্জ: অভিষেক বিনপুর ও জামবনী এলাকায় সেতুর কাজ, অলচিকি ভাষায় শিক্ষা এবং হাসপাতালের সিজারিয়ান ইউনিটের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, “এটা আমাদের রিপোর্ট কার্ড। গত ১২ বছরে বিজেপি এখানে কী করেছে? একটা ল্যাম্পপোস্টও বসিয়েছে কি?”

ইউসিসি (UCC) ও আদিবাসী অধিকার নিয়ে সতর্কতা:
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে জানান যে, বিজেপি সংবিধান বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন:
“২ দিন আগে গুজরাত বিধানসভায় ইউসিসি বিল পেশ করা হয়েছে। বিজেপি যদি ইউসিসি কার্যকর করে, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তপশিলি জনজাতিরা। আমরা কী খাব, কী পরব— তা কি দিল্লির নেতারা ঠিক করে দেবেন?”
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও আর্থিক পরিসংখ্যান:
বিনপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের খতিয়ান দিতে গিয়ে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেশ করেন:
উপভোক্তা: ৮৪,৪৯৯ জন মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: আগামী ৫ বছরে তপশিলি পরিবারগুলি মোট ১,০২,০০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবে।
চ্যালেঞ্জ: বিজেপি শাসিত কোনো একটি রাজ্যে (অসম বা রাজস্থান) শর্তহীনভাবে এমন প্রকল্প চালু করে দেখানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও বীরবাহার লড়াই:
অভিষেক মনে করিয়ে দেন যে, ১০০ দিনের কাজের টাকা এবং আবাসের টাকা আদায়ের জন্য তাঁরা যখন দিল্লি গিয়েছিলেন, তখন পুলিশ বীরবাহা হাঁসদাকে মেঝেতে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে গিয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর পুরনো মন্তব্যের রেশ টেনে তিনি বলেন, “যারা আমাদের জুতোর নিচে রাখতে চায়, তাদের ভোটের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক জবাব দিন।”
