নিজস্ব সংবাদদাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ সচেতনতামূলক কর্মসূচি বা সুইপ (SVEEP) কার্যক্রমের ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা নির্বাচন আধিকারিক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর এই রোডম্যাপের বিস্তারিত বিবরণ জনসমক্ষে তুলে ধরেন। প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো জেলার চারটি বিধানসভা কেন্দ্রেই ভোটারদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা এবং একটি ১০০% নৈতিক ও নির্ভীক ভোটদান প্রক্রিয়া সুনিশ্চিত করা। গত নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণ করে যে সমস্ত এলাকায় ভোটদানের হার তুলনামূলকভাবে কম ছিল, সেই অঞ্চলগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও প্রচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ভোটারদের উৎসাহিত করতে ‘ভুতুদা’ নামক একটি বিশেষ নির্বাচনী মাসকট চালু করা হয়েছে, যা “আমার ঝাড়গ্রাম আমার ভোট” স্লোগান নিয়ে প্রচার চালাচ্ছে। বিশেষ করে মহিলা ভোটার, প্রথমবার ভোট দেবেন এমন যুবক-যুবতী, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি, প্রবীণ নাগরিক এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল স্তরে সচেতনতা বাড়াতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে র্যালি, পথ নাটক, প্রতিটি ব্লকে স্বাক্ষর অভিযান এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তথ্য সম্বলিত লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মকে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত করতে স্কুল ও কলেজগুলোতে ইলেক্টোরাল লিটারেসি ক্লাব সক্রিয় করার পাশাপাশি কুইজ, রঙ্গোলি প্রতিযোগিতা এবং সেলফি জোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলাজুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর রুট মার্চ এবং কমিউনিটি মিটিং করা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষের মনে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়। ভোটারদের সুবিধার জন্য ইভিএম মেশিনে প্রার্থীর ছবি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং প্রতিটি বুথের গতিবিধি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিং করা হবে। যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগের দ্রুত সমাধানের জন্য একটি সমন্বিত কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর পরিশেষে সকল যোগ্য ভোটারদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ঝাড়গ্রামে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
