Saturday, April 11, 2026
HomeWest Bengalনয়াগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনে ‘শিক্ষক বনাম শিক্ষক’ লড়াইয়ে উত্তপ্ত জঙ্গলমহলের রাজনীতির ময়দান

নয়াগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনে ‘শিক্ষক বনাম শিক্ষক’ লড়াইয়ে উত্তপ্ত জঙ্গলমহলের রাজনীতির ময়দান

একদিকে শাসক দলের প্রার্থী তথা বর্তমান বিধায়ক দুলাল মুর্মু, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের শিক্ষক প্রার্থী। এই বিশেষ ‘শিক্ষক বনাম শিক্ষক’ দ্বৈরথ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল এখন তুঙ্গে। আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় দুই প্রার্থীরই শিক্ষক পরিচয় থাকায় নির্বাচনী প্রচারে শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়ন ও স্থানীয় কর্মসংস্থানই প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নয়াগ্রাম বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ এখন চরমে পৌঁছেছে। জঙ্গলমহলের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের লড়াই এবার এক বিশেষ মাত্রা পেয়েছে, কারণ এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে দুই শিক্ষকের মধ্যে। একদিকে শাসক দলের প্রার্থী তথা বর্তমান বিধায়ক দুলাল মুর্মু, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের শিক্ষক প্রার্থী। এই বিশেষ ‘শিক্ষক বনাম শিক্ষক’ দ্বৈরথ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল এখন তুঙ্গে। আদিবাসী অধ্যুষিত এই এলাকায় দুই প্রার্থীরই শিক্ষক পরিচয় থাকায় নির্বাচনী প্রচারে শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়ন ও স্থানীয় কর্মসংস্থানই প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিন নয়াগ্রামের শাসক দলের প্রার্থী দুলাল মুর্মু গোপীবল্লভপুর বাজারে এক বিশাল মিছিলের মাধ্যমে তাঁর প্রচার কর্মসূচিতে ঝড় তোলেন। তবে তিনি কেবল মিছিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং সরাসরি জনসংযোগের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। গোপীবল্লভপুর বাজারের প্রতিটি দোকানে দোকানে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেন এবং তাঁদের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ সহকারে শোনেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্লান্তিহীনভাবে প্রচার চালিয়ে তিনি এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। নয়াগ্রামের প্রতিটি কোণায় পৌঁছাতে এবং সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে তিনি মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

শাসক দলের এই নিবিড় প্রচার কৌশলের বিপরীতে বিরোধী শিবিরের প্রার্থীও ময়দানে কোনো খামতি রাখছেন না। তিনিও একজন শিক্ষক হওয়ায় এলাকার বুদ্ধিজীবী মহলে তাঁর একটি আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে পদযাত্রা ও পথসভার মাধ্যমে তিনি শাসক দলের বিরুদ্ধে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছেন। লিফলেট বিলি এবং ঘরোয়া আলোচনার মাধ্যমে তিনি ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

রাজনৈতিক সমীকরণের বিচারে নয়াগ্রামের এই লড়াই এখন সমানে সমানে বলে মনে করা হচ্ছে। গোপীবল্লভপুর বাজারে শাসক দলের এদিনের বিশাল মিছিল ও জনসংযোগ যেমন শক্তির প্রদর্শন করেছে, তেমনই বিরোধী শিবিরের ধারাবাহিক প্রচারও লড়াইকে জমজমাট করে তুলেছে। শেষ পর্যন্ত জঙ্গলমহলের মানুষ কোন শিক্ষকের ওপর আস্থা রাখবেন, তা নিয়েই এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে দুই প্রার্থীর ক্লান্তিহীন পরিশ্রম এবং মানুষের কাছে পৌঁছানোর তাগিদ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, নয়াগ্রামের ভোটের ফলাফল এবার অত্যন্ত আকর্ষণীয় হতে চলেছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular