নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের (ECI) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ অমান্য করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যার জেরে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে (NANDINI CHAKRABORTY) আজ দুপুর ৩টেয় দিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে তলব করা হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন এবং কমিশনের দেওয়া সুনির্দিষ্ট নির্দেশাবলী পালন না করার অভিযোগে এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে কমিশনের পক্ষ থেকে মুখ্যসচিবকে একটি কড়া চিঠি পাঠানো হয়েছিল, যেখানে একাধিক অনিয়মের বিষয় উল্লেখ ছিল। বিশেষ করে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ও ময়নায় ভোটার তালিকায় বেআইনিভাবে নাম তোলার অভিযোগে পাঁচজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকর না হওয়ায় কমিশন বিষয়টিকে বিধিবদ্ধ নির্দেশের চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। এছাড়াও বসিরহাট-২ এর বিডিও সুমিত্রপ্রতিম প্রধানের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে ১১ জন কর্মকর্তা নিয়োগের অভিযোগে তাঁকে সাসপেন্ড ও বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হলেও রাজ্য সরকার তা পালন করেনি বলে অভিযোগ। কমিশন জানিয়েছে, এই ধরণের অনীহা সুপ্রিম কোর্ট এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশাবলীর পরিপন্থী।

এখানেই শেষ নয়, তিনজন ইলেক্টোরাল রোল অবজার্ভার হিসেবে নাম ঘোষণার পর অশ্বিনী কুমার যাদব, রণধীর কুমার এবং স্মিতা পাণ্ডের বদলির নির্দেশ কার্যকর না করা এবং এসডিও বা এসডিএম পদমর্যাদার অফিসারদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও কমিশনের নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি এই সমস্ত বিষয়ে মুখ্যসচিবের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। বারংবার নির্দেশ উপেক্ষা করার এই প্রবণতাকে কমিশন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং সে কারণেই সশরীরে হাজির হয়ে জবাবদিহি করার জন্য মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে তলব করা হয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কমিশনের এই সক্রিয়তা এবং রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে এই সংঘাত এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
