প্রতিনিধি: কে টিভি বাংলা: মেদিনীপুর: গুটি গুটি পায়ে শিবম এবারে পড়ল ২৩ বছরে। কিশোর শিবম কবে পরিণত হয়েছে যুবকে। পড়াশোনার সাথে এখন সে হাত লাগিয়েছে বাবার ব্যবসাতে। তবে আর দশটা ছেলের মত শিবম তার জন্মদিন হইহুল্লোড় না করে বরং আশ্রয়ের বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সঙ্গে কেক কেটে নতুন বস্ত্র তুলে দিয়ে পালন করলো। বুধবার মেদিনীপুর শহরের বাসস্ট্যান্ডের বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের আবাসিক স্থলে স্ত্রী ছেলে মেয়েকে নিয়ে হাজির হয় অনয় মাইতির পরিবার। বাবা অনয় মাইতি ও মা স্মৃতিকণা মাইতি সঙ্গে বোন সূচি কে নিয়ে সকাল সকাল হাজির হয় শিবম।

একই সঙ্গে এই আশ্রয়ে তাদের ডাকে হাজির হন মেদিনীপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৌরভ বসু, বিশিষ্ট সমাজসেবী দুলাল দত্ত, সুরজিৎ সরকার, সেক ইমদাদুল সহ বিশিষ্ট জনেরা। এদিন মোমবাতি জ্বালিয়ে কেক কেটে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন সেই সকল অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সঙ্গে হইহুল্লোড় মেতে উঠে মাইতি পরিবার।

এরপর আশ্রয়ের আবাসিকদের জন্য ছিল খাওয়া দাওয়ার ব্যবস্থা। এরপর পুজো ও শুভ বিজয়ার প্রণাম সেরে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়া হয় মাইতি পরিবারের তরফে। বর্তমানে MBA এর ছাত্র শিবম তার বাবার ব্যবসার কাজেও হাত লাগিয়েছে। পড়াশোনা ব্যবসা ছাড়াও শিবম অবসর টাইম পেলে ফুটবল খেলার সঙ্গে ওয়েব সিরিজের ভক্ত। এই জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এসে শিবমের দীর্ঘায়ু কামনা করেন পৌরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান, কাউন্সিলার সৌরভ বসু সহ উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। দীর্ঘায়ু কামনা করেন এখানে থাকা পরিবার থেকে বঞ্চিত অসহায় বৃদ্ধ বৃদ্ধরাও।

সব মিলিয়ে এক অনাড়ম্বর পরিবেশে জন্মদিনের আনন্দ ভাগ করে নেয় শিবম সহ মাইতি পরিবার। শিবম ও তার বাবা অনয় মাইতির বক্তব্য আনন্দ অনুষ্ঠান হোক সমাজসেবায়। যারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন, তাদের সঙ্গে পারিবারিক অনুষ্ঠানের আনন্দ ভাগ করে নিতে পেরে খুবই আনন্দিত আমরা। অনয় বাবু বর্তমান প্রজন্মকেউ এই ধরনের অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাজসেবায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
