নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকের একাধিক গ্রামে বুধবার রাতভর বুনো হাতির দলের দাপাদাপিতে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হরিপুরা, রামানন্দপুর এবং গোকুলপুরসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ১৫ থেকে ২০টি হাতির একটি দল লোকালয়ে ঢুকে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর রাতে বনের দিক থেকে হাতির দলটি হঠাৎই চাষের জমিতে নেমে পড়ে এবং বিঘার পর বিঘা জমির ধান ও অন্যান্য ফসল তছনছ করে দেয়। ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত হাতির দলটি গ্রামগুলোতে দাপিয়ে বেড়ায়, যার ফলে প্রাণভয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি, হাতির আনাগোনার বিষয়ে বনদপ্তরকে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো স্থায়ী সমাধান মিলছে না। ফসলের ব্যাপক ক্ষতির কারণে ক্ষোভে ফুঁসছেন কৃষকরা। খবর পেয়ে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনেক চেষ্টার পর হাতির দলটিকে জঙ্গলের দিকে ফেরাতে সক্ষম হলেও আতঙ্ক কাটছে না জঙ্গলমহলের এই গ্রামগুলোতে।

অন্যদিকে, একই রাতে মেদিনীপুর পিরাকাটা রেঞ্জের রঞ্জা বিট এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বুধবার গভীর রাতে মুসনা গ্রামে মাঠের মাঝে থাকা একটি গভীর কুয়োর মধ্যে পড়ে যায় একটি হাতির শাবক। জানা গেছে, মা হাতির সাথে যাওয়ার সময় অন্ধকারের কারণে কুয়োর গভীরতা বুঝতে না পেরে বাচ্চা হাতিটি ভেতরে পড়ে গিয়েছিল। শাবকটি কুয়োর ভেতর থেকে চিৎকার শুরু করলে এবং মা হাতিটি কুয়োর চারপাশে দাঁড়িয়ে উন্মাদের মতো গর্জন করতে থাকলে পুরো গ্রামের মানুষের বুক কেঁপে ওঠে। স্থানীয়রা তড়িঘড়ি বনদপ্তরে খবর দিলে পিরাকাটা রেঞ্জ ও রঞ্জা বিটের বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কিন্তু মা হাতিটি কুয়োর ঠিক পাশেই পাহারায় থাকায় উদ্ধারকাজ শুরু করা কার্যত অসম্ভব ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনেক কৌশলে মা হাতিটিকে কুয়োর পাশ থেকে কিছুটা দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। এরপর ভোররাত থেকে শুরু হয় রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান। বনদপ্তরের কর্মী এবং গ্রামবাসীদের মিলিত প্রচেষ্টায় টানা চার ঘণ্টা কাজ করার পর ভোর ৫টা নাগাদ শাবকটিকে সুস্থ অবস্থায় কুয়ো থেকে টেনে তোলা হয়। কুয়ো থেকে মুক্তি পেয়েই শাবকটি তার মায়ের সাথে পুনরায় জঙ্গলে ফিরে যায়। শাবকটি উদ্ধার হওয়ার পর বনকর্মী ও গ্রামবাসীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেও বন্যপ্রাণী ও মানুষের এই সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
