নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাজুড়ে গত ৪৮ ঘণ্টায় দু’টি পৃথক পথ দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে শালবনী থানার ভাদুতলা এলাকায়। ভাদুতলা-পিড়াকাটা রাজ্য সড়কের ওপর একটি বেপরোয়া গতিতে আসা ট্রাক্টর সজোরে ধাক্কা মারে ৬৩ বছর বয়সী সাইকেল আরোহী অজিত চক্রবর্তীকে। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। উত্তেজিত জনতা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে এই পথ অবরোধ, যার ফলে যান চলাচল পুরোপুরি থমকে যায়। পরে শালবনী থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার দুপুরে মেদিনীপুর-কেশপুর ৬ নম্বর রাজ্য সড়কের মাইতিরগোলা এলাকায় আরও এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। কেশপুরের মুন্ডুলিকা হাইস্কুলে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ইনভিজিলেটরের দায়িত্ব পালন করে মারুতি গাড়িতে চেপে মেদিনীপুর শহরে ফিরছিলেন কেশপুর গার্লস হাইস্কুলের দুই শিক্ষিকা। সেই সময় উল্টোদিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি মারুতি গাড়িটিতে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে মারুতি গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এই ঘটনায় মারুতি চালক আবু নাসের এবং কেশপুর গার্লস হাইস্কুলের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষিকা রুপা প্রামানিকের (৪৪) মৃত্যু হয়েছে। ওই গাড়িতেই থাকা গণিতের শিক্ষিকা কঙ্কনা সাঁতরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার অভিঘাতে দুই বাইক আরোহীও গুরুতর আহত হন, তাঁরাও বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

মাইতিরগোলার এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা দেহ রাস্তায় রেখে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের তরফে স্পিড ব্রেকার বা বাম্পার তৈরির কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। খবর পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছান মেদিনীপুরের বিধায়ক সুজয় হাজরা এবং মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান। সহকর্মীর অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন কেশপুর গার্লস হাইস্কুলের শিক্ষকরাও। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সমাপ্তি ভূঁইয়া অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে জানান যে, রুপা দিদিমণি সাধারণত সামনের আসনে বসেন না, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এদিন তিনি চালকের পাশের আসনেই বসেছিলেন। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে ঘাতক ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে, তবে চালক ও খালাসি পলাতক। পুলিশ অভিযুক্তদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে এবং দ্রুত বাম্পার তৈরির বিষয়েও আশ্বাস দিয়েছে।
