Wednesday, February 18, 2026
HomeVoteভোটের নির্ঘণ্টের আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী ! অশান্তি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন...

ভোটের নির্ঘণ্টের আগেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী ! অশান্তি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের

কমিশনের আধিকারিকদের মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা বা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা ও সংখ্যা অনেকটাই বাড়তে পারে।

নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট এখনও ঘোষণা না হলেও, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগেভাগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি শুরু করে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে এসআইআর (SIR) শুনানিকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যে ধরনের অশান্তি, ভাঙচুর ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে, তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই আগাম সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা ও উত্তর দিনাজপুরের মতো জেলাগুলোতে শুনানি চলাকালীন যে তাণ্ডব চলেছে, তা কমিশনের উদ্বেগের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের সময় যাতে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সেই লক্ষ্যে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে দ্রুত বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো এসআইআর শুনানি চলাকালীন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান। শীর্ষ আদালত এই বিষয়ে রাজ্যের পুলিশ মহানির্দেশক বা ডিজিপি-কে শোকজ করায় নির্বাচন কমিশন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। কমিশনের আধিকারিকদের মতে, ২০২১ সালের বিধানসভা বা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা ও সংখ্যা অনেকটাই বাড়তে পারে। শোনা যাচ্ছে, এবারের নির্বাচনে দফার সংখ্যা আগের তুলনায় কম হতে পারে, আর সেই কারণেই প্রতিটি দফায় অনেক বেশি সংখ্যক বাহিনী মোতায়েন করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।

ইতিমধ্যেই রাজ্যে নিযুক্ত স্পেশ্যাল অবজারভার বা বিশেষ পর্যবেক্ষক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট তৈরি করছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য এবং মতামতের ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে যে ঠিক কত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যে আসবে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ইঙ্গিতও দিয়ে রাখা হয়েছে। মূলত ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই বাহিনী মোতায়েন করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে মানুষের মনে আত্মবিশ্বাস ফেরানো এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করাই এখন কমিশনের মূল লক্ষ্য। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবির পাশাপাশি সাম্প্রতিক অশান্তির আবহ কমিশনের এই আগাম বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে আরও ত্বরান্বিত করল।

RELATED ARTICLES

Most Popular