নিজস্ব সংবাদদাতা : লালগড়ের নেতাই উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা বর্তমানে চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিস্তৃত এই স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে গেলেও, তাদের পড়ানোর জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র চারজন। ২০১৯ সালে স্কুলটি দশম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নীত হলেও গত সাত বছরে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয়নি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অন্তত ১৩ জন শিক্ষক এবং প্রয়োজনীয় অশিক্ষক কর্মচারী থাকা বাধ্যতামূলক, কিন্তু নেতাই স্কুলে চারজন শিক্ষক ছাড়া কোনো ক্লার্ক বা গ্রুপ-ডি কর্মীও নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই পঠনপাঠন লাটে উঠেছে এবং প্রতিদিন অন্তত দুটি করে ক্লাস বাদ দিতে হচ্ছে। এই অব্যবস্থার কারণে কোনো ক্লাসেই সিলেবাস সময়মতো শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না, যা বর্তমান মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য এক গভীর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষক সংকটের সুরাহা চেয়ে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকরা বারবার রাস্তা অবরোধ, বিক্ষোভ এবং ডেপুটেশন দিলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি নেতাই দিবসের অনুষ্ঠানেও পড়ুয়ারা বিক্ষোভ দেখিয়েছিল এবং সেখান থেকে আশ্বস্ত করা হলেও এক মাস কেটে গেলেও নতুন কোনো শিক্ষক স্কুলে যোগ দেননি। নিরুপায় হয়ে অভিভাবকরা নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিয়ে গ্রামের দুজন শিক্ষিত যুবককে ‘গেস্ট টিচার’ হিসেবে নিয়োগ করেছেন, তবে তাঁরাও সপ্তাহে দুদিনের বেশি সময় দিতে পারছেন না। স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এ বছর ছাত্র ভর্তি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কিন্তু গ্রামবাসীদের চাপে এবং পরবর্তী স্কুলটি তিন কিলোমিটারেরও বেশি দূরে হওয়ায় বাধ্য হয়ে তাঁকে ভর্তি নিতে হয়েছে। বর্তমানে স্কুলের দরজা খোলা থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজ পড়ুয়াদেরই করতে হয়। এই শোচনীয় অবস্থায় কবে স্কুলের শিক্ষক সমস্যা মিটবে এবং শিশুরা স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনার সুযোগ পাবে, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
