নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গুড়গুড়িপাল থানার অন্তর্গত গোপগড় ইকো পার্ক সংলগ্ন জঙ্গলে এক দম্পতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার রাতে স্থানীয় বাসিন্দারা জঙ্গলের ভেতর একটি গাছে ওই দম্পতিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় গুড়গুড়িপাল থানার পুলিশ। পুলিশ দেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। মৃতদের নাম পিন্টু দাস ও মৌমিতা দাস বলে শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁরা মেদিনীপুর শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পানপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এই দম্পতির দুটি ছোট সন্তান রয়েছে, যারা এই আকস্মিক ঘটনায় কার্যত অনাথ হয়ে পড়ল।
স্থানীয় সূত্রে এবং পরিবারের ঘনিষ্ঠ মহলে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে, পিন্টু ও মৌমিতা আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন এবং বেশ কিছু মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, গত কয়েকদিন আগে পাওনাদাররা তাঁদের বাড়িতে চড়াও হয় এবং টাকা ফেরত চেয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর ও অপমানজনক কথাবার্তা বলে। পাওনাদারদের সেই প্রকাশ্য অপমান ও লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে ওই দম্পতি মানসিকভাবে পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলেন। লোকলজ্জা এবং আর্থিক অনটনের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েই তাঁরা আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মেদিনীপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোজাম্মেল হোসেন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, পাওনাদারদের অপমানই ওই দম্পতিকে মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে। সামান্য কিছু টাকার জন্য এভাবে দুটি তরতাজা প্রাণ চলে যাওয়ায় এবং দুটি শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ এই ঘটনার পেছনে থাকা পাওনাদারদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে এবং কোনো প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পানপাড়া এলাকায় এই দম্পতির মৃত্যুতে এখন বিষাদের সুর।
