Monday, March 2, 2026
HomeWest Bengalঝাড়গ্রামে প্রথম পরিযায়ী শ্রমিক সম্মেলন ! কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে সরব...

ঝাড়গ্রামে প্রথম পরিযায়ী শ্রমিক সম্মেলন ! কর্মসংস্থান ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে সরব শ্রমিক সংগঠন

সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী কর্মসংস্থানের চরম অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ না থাকায় পেটের দায়ে ঝাড়গ্রামের পাশাপাশি মালদা বা মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলো থেকেও প্রতিদিন হাজার হাজার যুবক-যুবতী ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম জেলায় এই প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো পরিযায়ী শ্রমিকদের একটি বিশেষ সম্মেলন। জেলার বিভিন্ন ব্লক ও গ্রাম থেকে আসা বিপুল সংখ্যক শ্রমিক এই সম্মেলনে যোগ দিয়ে নিজেদের অভাব-অভিযোগ ও দাবিদাওয়া তুলে ধরেন। ওয়েস্ট বেঙ্গল মাইগ্রান্ট ওয়ার্কাস ইউনিয়ন এবং সিআইটিইউ-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক আসাদুল্লাহ গায়েন, জেলা সম্পাদক পার্থ যাদব এবং জেলা সভানেত্রী হেনা সৎপতি সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব। ঝাড়গ্রামের মতো আদিবাসী অধ্যুষিত জেলায় পরিযায়ী শ্রমিকদের এই সংগঠিত জমায়েত রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী কর্মসংস্থানের চরম অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত কাজের সুযোগ না থাকায় পেটের দায়ে ঝাড়গ্রামের পাশাপাশি মালদা বা মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলো থেকেও প্রতিদিন হাজার হাজার যুবক-যুবতী ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। এর ফলে গ্রামের পর গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি ভেঙে পড়ছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, দিনমজুরের কাজ বাড়লেও শিল্পায়ন বা স্থায়ী সরকারি প্রকল্পের অভাবে শ্রমিকদের ভবিয্যত আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে। শ্রমিকরা জানান যে পরিযায়ী শ্রমিকের তকমা নিয়ে বাইরে কাজ করতে গিয়ে প্রায়ই তাঁদের নিরাপত্তা ও মজুরি নিয়ে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়ে সম্মেলন থেকে জানানো হয় যে, মুখ্যমন্ত্রী বারবার পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরে আসার কথা বললেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। শ্রমিকদের স্পষ্ট দাবি, যথাযথ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে শুধুমাত্র আহ্বানে সাড়া দিয়ে ফেরা সম্ভব নয়। স্থায়ী শিল্প ও কাজের সঠিক পরিবেশ তৈরি না হলে রাজ্যের বাইরে শ্রম বিক্রি করা ছাড়া তাঁদের আর কোনো উপায় থাকবে না। সম্মেলন শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্য সরকারের কাছে অবিলম্বে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ এবং তাঁদের পরিবারের সামাজিক সুরক্ষার দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular