Monday, March 2, 2026
HomeWest Bengalঝাড়গ্রামে ভোটার তালিকায় নাম বিচারাধীন থাকা নিয়ে বিএলও-কে হুমকি ! অভিযুক্তের ক্ষমাপ্রার্থনা

ঝাড়গ্রামে ভোটার তালিকায় নাম বিচারাধীন থাকা নিয়ে বিএলও-কে হুমকি ! অভিযুক্তের ক্ষমাপ্রার্থনা

নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাইয়ের পর মৃত, স্থানান্তরিত এবং অন্যান্য ত্রুটির কারণে ১৩৩ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়, ফলে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১,২৬১-তে। এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় আরও কিছু রদবদলের মাধ্যমে বর্তমানে ওই বুথে মোট ভোটার সংখ্যা হয়েছে ১,২৬৮ জন।

নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম শহরে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তকরণ ও যাচাই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এক বিএলও-কে (বুথ লেভেল অফিসার) ফোনে মারধরের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঝাড়গ্রাম শহরের জঙ্গলখাস প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২৪ নম্বর বুথের দায়িত্বে থাকা বিএলও নির্মলেন্দু মাহাতো অভিযোগ করেছেন যে, শনিবার রাতে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে গালিগালাজ ও শারীরিক নিগ্রহের হুমকি দেওয়া হয়। ফোনের ওপার থেকে এক ব্যক্তি জানতে চান কেন ভোটার তালিকায় নির্দিষ্ট দু’জনের নাম এখনও বিচারাধীন বা ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ অবস্থায় রয়েছে। বিএলও সাহেব বিষয়টি উচ্চতর কর্তৃপক্ষের যাচাই স্তরে রয়েছে বলে জানালে ওই ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে তাঁকে হুমকি দেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনার পর আতঙ্কিত বিএলও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান এবং রবিবার ঝাড়গ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

জেলা নির্বাচন দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ২২৪ নম্বর বুথটিতে প্রাথমিক তালিকায় ভোটারের সংখ্যা ছিল ১,৩৯৪ জন। নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন ও যাচাইয়ের পর মৃত, স্থানান্তরিত এবং অন্যান্য ত্রুটির কারণে ১৩৩ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়, ফলে সংখ্যাটি দাঁড়ায় ১,২৬১-তে। এরপর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময় আরও কিছু রদবদলের মাধ্যমে বর্তমানে ওই বুথে মোট ভোটার সংখ্যা হয়েছে ১,২৬৮ জন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে ওই এলাকায় ১২৮ জন ভোটারের নথিপত্র এখনও যাচাইয়ের স্তরে রয়েছে। অর্থাৎ তাঁদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নির্ভর করছে উচ্চপদস্থ নির্বাচনী আধিকারিকদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। এই প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলাকালীন কর্মীকে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ জেলা প্রশাসন।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, যে নম্বর থেকে হুমকি ফোনটি করা হয়েছিল সেটি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুকের বাসিন্দা শেখ ইসলাম নামে এক ব্যক্তির। শেখ ইসলাম স্বীকার করেছেন যে, তাঁর দিদি মেহেরজান বিবির নাম ওই বুথের ভোটার তালিকায় এখনও বিচারাধীন অবস্থায় থাকায় তিনি ক্ষুব্ধ ছিলেন। তাঁর দাবি, সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরেও কেন নাম চূড়ান্ত তালিকায় আসেনি, তা নিয়ে উত্তেজনার বশেই তিনি ভুলবশত বিএলও-কে কটু কথা বলে ফেলেছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের ভুলের জন্য বিএলও এবং প্রশাসনের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। তবে পুলিশ ও প্রশাসন বিষয়টি হালকাভাবে নিচ্ছে না এবং সরকারি কাজে বাধা বা হুমকি দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক নজর রাখছে।

ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক তথা জেলা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর এই প্রসঙ্গে কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, যাঁদের নাম এখনও ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে, তাঁদের অহেতুক আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। সমস্ত নথিপত্র বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রক্রিয়া শেষ হলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে কোনো অবস্থাতেই নির্বাচন কর্মীদের ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়া বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা ঘটলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বর্তমানে বিএলও এবং নির্বাচনী কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে জেলা নির্বাচন দপ্তর।

RELATED ARTICLES

Most Popular