নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর ব্লকে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট বা দিনক্ষণ ঘোষণা হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রবেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোমবার দুপুর নাগাদ এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী কেশপুর ব্লক সংলগ্ন কিষাণ মান্ডিতে এসে পৌঁছায়। ভোট ঘোষণার অনেক আগে থেকেই এলাকায় বাহিনীর এই আগমনে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তেমনই প্রশাসনের পক্ষ থেকে একে আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কিষাণ মান্ডিতে পৌঁছানো কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান কেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক। বাহিনীর থাকার জন্য কিষাণ মান্ডিতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং আপাতত সেখানেই তাঁরা অস্থায়ী শিবির তৈরি করেছেন।

পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে যে, সোমবার বাহিনী কিষাণ মান্ডিতে অবস্থান করে নিজেদের পরবর্তী রণকৌশল ও পরিক্রমার পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই কেশপুর ব্লকের বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকা এবং গ্রামগুলোতে রুটমার্চ শুরু করবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এই রুটমার্চের মূল উদ্দেশ্য হলো এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা এবং সাধারণ মানুষের মনে নিরাপত্তার ভাব জাগিয়ে তোলা। জওয়ানরা এলাকার অলিগলি ঘোরার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলবেন এবং গত কয়েকদিনের রাজনৈতিক পরিবেশ বা কোনো অশান্তির আশঙ্কা রয়েছে কি না, সেই বিষয়ে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করবেন।

কেশপুর এলাকাটি রাজনৈতিকভাবে বরাবরই স্পর্শকাতর হিসেবে পরিচিত, তাই নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মোতায়েন করে প্রশাসন কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এলাকার ভৌগোলিক অবস্থান এবং স্পর্শকাতর বুথগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত টহলদারি চালানো হবে। বাহিনীর এই উপস্থিতির ফলে এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা বা উত্তজনা রোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটদানের পরিবেশ তৈরি করাই এই আগাম বাহিনী মোতায়েনের প্রধান লক্ষ্য। আগামী কয়েকদিন কেশপুরের বিভিন্ন প্রান্তে বাহিনীর এই সক্রিয়তা আরও বাড়বে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
