নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম জেলায় বেহাল রাস্তার সংস্কারের দাবিতে ‘আগে রাস্তা পরে ভোট’ স্লোগান তুলে তীব্র বিক্ষোভে সামিল হলেন কয়েকশো গ্রামবাসী। শুক্রবার ঝাড়গ্রাম থেকে বেলপাহাড়ি যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ৫ নম্বর রাজ্য সড়কটি বেচকুন্দ্রীর কাছে অবরোধ করা হয়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বেচকুন্দ্রী থেকে মুরগীডিহি পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত শোচনীয়। এই ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৮ থেকে ১০টি গ্রামের মানুষকে যাতায়াত করতে হয়। বর্ষার সময় রাস্তাটি কাদার স্তূপে পরিণত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে এবং এর ফলে ছোট-বড় একাধিক দুর্ঘটনা নিয়মিত লেগেই থাকে। এই সমস্যার কথা স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসাদা সহ প্রশাসনের সমস্ত স্তরে বারবার জানিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় শেষমেষ আন্দোলনের পথ বেছে নিয়েছেন এলাকাবাসী।

রাস্তা অবরোধের ফলে ওই ব্যস্ত রাজ্য সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীরা দুর্ভোগের মুখে পড়েন। বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ মূলত মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসাদা এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিস্পৃহ ভূমিকার বিরুদ্ধে। দীর্ঘক্ষণ অবরোধ চলার পর ঝাড়গ্রাম থানার আইসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আধিকারিকরা গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দিতে সক্ষম হলেও বিক্ষোভকারীদের জেদের মুখে পড়ে আইসিকে পায়ে হেঁটে ওই ২ কিলোমিটার বেহাল রাস্তা নিজে চোখে পরিদর্শন করতে হয়। গ্রামবাসীরা হাতে নাতে তাঁদের প্রতিদিনের যন্ত্রণার চিত্র পুলিশ প্রশাসনের সামনে তুলে ধরেন।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, দিনের পর দিন কেবল আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তাঁরা আর বসে থাকবেন না। অবিলম্বে যদি রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু না হয়, তবে আসন্ন নির্বাচনে ব্যালট বক্সের মাধ্যমে তাঁরা এর কড়া জবাব দেবেন। ‘নো রোড নো ভোট’ বা রাস্তা না হলে ভোট নয়—এই হুঁশিয়ারি দিয়ে গ্রামবাসীরা স্পষ্ট করেছেন যে তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন জারি থাকবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলেও এলাকাবাসী এখন কাজের কাজ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
