Sunday, March 8, 2026
HomeWest Bengalশিল্প ও কাজের দাবিতে ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে ডিওয়াইএফআই-এর বিশাল বাইক র‍্যালি

শিল্প ও কাজের দাবিতে ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে ডিওয়াইএফআই-এর বিশাল বাইক র‍্যালি

৬ ও ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার যুবসমাজকে সংগঠিত করার প্রয়াস চালাচ্ছে সংগঠনটির জেলা কমিটি।

নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে শিল্পায়ন এবং কর্মসংস্থানের দাবিতে ঝাড়গ্রাম জেলাজুড়ে দুই দিনব্যাপী এক বিশাল বাইক র‍্যালির ডাক দিয়েছে বামপন্থী যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই (DYFI)। ৬ ও ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে জেলার যুবসমাজকে সংগঠিত করার প্রয়াস চালাচ্ছে সংগঠনটির জেলা কমিটি। র‍্যালিটি গোপীবল্লভপুরের বংশীপুর চক থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত পরিক্রমা করে বেলপাহাড়ীতে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে রগড়া, রোহিনী, বাকড়া, গুপ্তমনি, সরডিহা, মানিকপাড়া, বাঁড়গ্রাম, বিনপুর, শিলদা, কুলটিকরি এবং তপসিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে বাম যুবকর্মীরা তাঁদের দাবিদাওয়া পৌঁছে দিচ্ছেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির মূল স্লোগান রাখা হয়েছে “শিল্প চাই, কাজ চাই— বামপন্থী বাংলা চাই”। তাঁদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজ্যে নতুন শিল্প স্থাপন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা এবং জেলায় বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করা। এর পাশাপাশি ১০০ দিনের কাজকে বাড়িয়ে ২০০ দিন করা এবং বেকার ভাতার পরিমাণ মাসিক ৩০০০ টাকায় উন্নীত করার দাবিও জোরালোভাবে তোলা হয়েছে। কৃষিপ্রধান এই জেলায় কৃষকদের ফসলের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা এবং শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ২৬ হাজার টাকা করার দাবিতেও সরব হয়েছে ডিওয়াইএফআই নেতৃত্ব। অর্থনৈতিক দাবির পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার বার্তাও এই র‍্যালি থেকে দেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকদের মতে, ঝাড়গ্রামের মতো আদিবাসী অধ্যুষিত এবং জঙ্গলমহল এলাকায় কর্মসংস্থানের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে যুবসমাজ দিশেহারা হয়ে পড়ছে। এই বাইক র‍্যালির মাধ্যমে তাঁরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চান যাতে সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বেলপাহাড়ীতে র‍্যালির সমাপ্তি অনুষ্ঠানে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বামপন্থী যুব নেতারা আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা ঘোষণা করতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular