নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম শহরে আদিবাসীদের অন্যতম প্রধান সামাজিক সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের পক্ষ থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার সংগঠনের শত শত সদস্য তাঁদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে শহরের রাজপথে নামলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো পরিক্রমা করার পর একটি বড় সমাবেশে মিলিত হয়, যেখানে সংগঠনের নেতৃত্ব রাজ্য সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের মূল দাবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অলচিকি লিপির মাধ্যমে শিক্ষার জন্য একটি পৃথক সাঁওতালি শিক্ষা বোর্ড গঠন করা এবং আদিবাসী সমাজের ঐতিহ্যবাহী ‘মাঝি বাবা’ বা গ্রাম প্রধানদের জন্য সরকারি পঞ্চভাতা চালু করা।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, আদিবাসীদের পবিত্র উপাসনাস্থল বা ‘জাহের থান’গুলোকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও সংস্কার করতে হবে। এছাড়া ২০০৬ সালের বনাধিকার আইন সঠিকভাবে কার্যকর করার মাধ্যমে আদিবাসীদের জমির অধিকার সুনিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়েছে। সংগঠনের অন্যতম প্রধান ক্ষোভের কারণ হলো ভুয়ো এসটি (তফসিলি জনজাতি) সার্টিফিকেট ইস্যু করা। তাঁদের দাবি, যারা প্রকৃত আদিবাসী নয় অথচ সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছে, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। সংগঠনের নেতা ডেঙ্গা হাসলে অভিযোগ করেন যে, এই সমস্ত ন্যায্য দাবি নিয়ে বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা মনে করিয়ে দেন যে, ২০২৪ সালে তাঁরা তাঁদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জাতীয় সড়ক অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু অবরোধ প্রত্যাহারের পর রাজ্য সরকার তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসেনি বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ারি, যদি অবিলম্বে তাঁদের দাবিগুলো পূরণ না করা হয়, তবে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথ বেছে নেবেন তাঁরা। আজকের এই কর্মসূচির ফলে ঝাড়গ্রাম শহরের জনজীবন কিছুটা প্রভাবিত হলেও আদিবাসী সমাজের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রশাসনের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
