Thursday, March 5, 2026
HomeWest Bengalসাংসদ দেবের জন্মভূমিতেই বিপত্তি: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ভরসা পারাং নদীর নড়বড়ে বাঁশের...

সাংসদ দেবের জন্মভূমিতেই বিপত্তি: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের ভরসা পারাং নদীর নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো

ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেবের জন্মভূমি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরের মহিষদা গ্রাম লাগোয়া এলাকায় এই করুণ দৃশ্য এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

নিজস্ব সংবাদদাতা : ছাত্রজীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতি সামলানোর পাশাপাশি কেশপুরের একদল পরীক্ষার্থীকে এখন প্রতিমুহূর্তে লড়াই করতে হচ্ছে নদী পারাপারের চরম অনিশ্চয়তার সঙ্গে। ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেবের জন্মভূমি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরের মহিষদা গ্রাম লাগোয়া এলাকায় এই করুণ দৃশ্য এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। মহিষদা রামনারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের সিট পড়েছে আন্দিচক উচ্চ বিদ্যালয়ে, যেখানে পৌঁছাতে গেলে পারাং নদীর ওপর গ্রামবাসীদের তৈরি নড়বড়ে বাঁশের অস্থায়ী পোলই একমাত্র ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ছাত্রছাত্রীরা এভাবেই নদী পারাপার করে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাচ্ছে, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

নদীর একদিকে ১০ নং কেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাপাসগেড়িয়া এবং অন্যদিকে ১২ নং সরিষাখোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের কুদমিচক গ্রাম। এই বাঁশের সাঁকোটি কুদমিচক সহ পার্শ্ববর্তী প্রায় ৯-১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। বিকল্প রাস্তা দিয়ে ঘুরে পরীক্ষা কেন্দ্রে বা ব্লক সদর দপ্তরে পৌঁছাতে গেলে প্রায় ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়, যা ছাত্রছাত্রী বা রোগীদের পক্ষে অসম্ভব। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে বাম ও তৃণমূল—উভয় সরকারের আমলেই তাঁরা কেবল প্রতিশ্রুতির কথা শুনেছেন, কিন্তু যাতায়াতের জন্য কোনো স্থায়ী সেতু নির্মিত হয়নি। এমনকি খোদ এলাকার ভূমিপুত্র মেগাস্টার দেব সাংসদ হওয়ার পরও দীর্ঘ ১৫ বছরে এই সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় হতাশ মহিষদা সংলগ্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ।

এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও পরীক্ষার্থীরা সুস্থভাবে পরীক্ষা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজ তৈরি করা হোক যাতে তাঁদের ছোট ভাইবোনদের অন্তত ভবিষ্যতে এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা দিতে যেতে না হয়। এই প্রসঙ্গে কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গরাই জানিয়েছেন যে, স্থায়ী সেতু নির্মাণের জন্য কয়েক কোটি টাকার প্রয়োজন যা পঞ্চায়েত সমিতির সাধারণ ফান্ডের আওতার বাইরে। তবে ছাত্রছাত্রীদের এই কষ্টের কথা বিবেচনা করে তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন এবং দ্রুত একটি সমাধানের পথ খুঁজে বের করার আশ্বাস দিয়েছেন। আপাতত প্রশাসনের এই সদিচ্ছার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কুদমিচক ও কাপাসগেড়িয়া গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ।

RELATED ARTICLES

Most Popular