নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকের নেপুরা এলাকায় গত সাত দিন ধরে বিশাল এক হাতির দলের তাণ্ডবে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যা নামলেই হাতির দলটি লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে এবং তাণ্ডব চালিয়ে গভীর রাতে আবার নয়াগ্রামের জঙ্গলে ফিরে যাচ্ছে। গ্রামবাসীদের দাবি অনুযায়ী, নয়াগ্রামের জঙ্গল থেকে সুবর্ণরেখা নদী পেরিয়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি হাতির এই বিশাল দলটি সাঁকরাইল ব্লকের নেপুরা এলাকায় প্রবেশ করছে। এর ফলে নেপুরা, আমলাদাঁড়ি, দক্ষিণ রগড়া, ইটামান্ডুয়া, গড়ধরা ও তেঁতুলিয়ার মতো একাধিক গ্রাম এখন হাতি আতঙ্কে সিঁটিয়ে রয়েছে। হাতির দলটি লোকালয়ে ঢুকে কেবল ঘরবাড়িই নয়, বরং বিঘার পর বিঘা চাষের জমিও নষ্ট করে দিচ্ছে।

ইটামান্ডুয়া গ্রামে খাবারের সন্ধানে ঢুকে হাতির দলটি একটি বাড়ির দরজা ভেঙে ফেলে এবং সেখানে রাখা একটি চার চাকা গাড়ির কাঁচ ভাঙচুর করে। তবে সবথেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষিকাজে। প্রায় শয়ে শয়ে বিঘা রোয়া ধান হাতির পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে নষ্ট হয়েছে। এর পাশাপাশি ১০ থেকে ১২ বিঘা আখ খেত, ২ থেকে ৩ বিঘা কুমড়ো এবং ৫ থেকে ১০ বিঘা সর্ষে ও লঙ্কা চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি পূর্ণেন্দু সিংহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, বনদপ্তরের আধিকারিকরা গাছ কাটার সময় খুব তৎপর থাকলেও গত কয়েক দিন ধরে চলা এই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর নিচ্ছেন না। এর আগে বহুবার ফসলের ক্ষতি হলেও আজ পর্যন্ত তাঁরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

গ্রামবাসী ভবানী শংকর পৈড়া জানান যে, ৫০-৬০টি হাতির দল যদি প্রতিদিন একই জমিতে তাণ্ডব চালায়, তবে সেখানে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। লোকালয়ে এভাবে হাতির প্রবেশ ঘটায় রাতভর গ্রাম পাহারা দিতে হচ্ছে তাঁদের, ভয়ে চোখের পাতা এক করতে পারছেন না এলাকার মানুষ। তাঁদের আশঙ্কা, এই হাতির দলটি আবারও লোকালয়ে হামলা চালাবে এটা প্রায় নিশ্চিত। এমতাবস্থায় অসহায় গ্রামবাসীরা দ্রুত প্রশাসন ও বনদপ্তরের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁরা চান হাতির গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা হোক এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের অবিলম্বে উপযুক্ত সরকারি ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হোক।
