Monday, March 2, 2026
HomeWest Bengalগড়বেতায় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা: রাজেশ মাহাতোর নাটকীয় যোগদান ও রাজনৈতিক উত্তাপ

গড়বেতায় বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা: রাজেশ মাহাতোর নাটকীয় যোগদান ও রাজনৈতিক উত্তাপ

দীর্ঘ তিন দশক ধরে কুড়মি সম্প্রদায়ের এসটি (ST) মর্যাদা ও কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফশিলভুক্ত করার দাবিতে লড়াকু নেতা হিসেবে পরিচিত রাজেশের এই যোগদান জঙ্গলমহলের নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতায় বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’ এক অভাবনীয় রাজনৈতিক মোড় নিল। রবিবার এই কর্মসূচির মঞ্চে ঝাড়গ্রাম ও জঙ্গলমহল এলাকার কুড়মি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ তথা পশ্চিমবঙ্গ কুড়মি সমাজের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাজেশ মাহাতো আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে তিনি হাতে তুলে নেন গেরুয়া পতাকা। দীর্ঘ তিন দশক ধরে কুড়মি সম্প্রদায়ের এসটি (ST) মর্যাদা ও কুড়মালি ভাষাকে অষ্টম তফশিলভুক্ত করার দাবিতে লড়াকু নেতা হিসেবে পরিচিত রাজেশের এই যোগদান জঙ্গলমহলের নির্বাচনী সমীকরণে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নবজোয়ার কর্মসূচির সময় মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার কনভয়ে হামলার ঘটনায় নাম জড়ানো এবং জেল খাটার পর থেকেই রাজেশের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা ছিল, যা আজ এই যোগদানের মাধ্যমে স্পষ্ট হলো।

পরিবর্তন যাত্রার সূচনার আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান গড়বেতার ঐতিহাসিক সর্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দেন। রবিবার দুপুর প্রায় দুটো নাগাদ মন্দিরে পৌঁছে তিনি নিষ্ঠাভরে পূজা ও আরতি সম্পন্ন করেন। মন্দির থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি রাজ্য সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। ধর্মেন্দ্র প্রধান বর্তমান সরকারকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেন যে, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা এখানে লুট করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা ও মিড-ডে মিলের অর্থ নয়ছয় নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ২০২৬ সালের নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে ইরান ও ইজরায়েলের যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি, বরং ঘরোয়া রাজনীতিতেই নিজের বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন।

অন্যদিকে, গড়বেতা জুড়ে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে পোস্টার যুদ্ধ তুঙ্গে উঠেছে। একদিকে যখন সর্বমঙ্গলা মন্দিরের চারপাশ এবং যাত্রাপথ বিজেপির পতাকা, ফেস্টুন ও ‘পরিবর্তন যাত্রা’র তোরণে সাজিয়ে তোলা হয়েছে, ঠিক তখনই পাল্টা প্রচারে নেমেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপির স্লোগানকে কটাক্ষ করে এবং এই যাত্রার বিরোধিতা করে এলাকায় অসংখ্য প্ল্যাকার্ড ও পোস্টার লাগিয়েছে শাসক দল। তৃণমূলের দাবি, জঙ্গলমহলের শান্তি বিঘ্নিত করতেই এই ধরণের কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। দুই শিবিরের এই প্রচারের লড়াইয়ে একদিকে যেমন রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে, তেমনই সাধারণ মানুষের মধ্যে কর্মসূচি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ধরণের অশান্তি এড়াতে এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

Most Popular