নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে এবং চার দফা দাবির সমর্থনে আজ সোমবার ঝাড়গ্রাম শহরে এক বিশাল প্রতিবাদী মিছিলের আয়োজন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী সমিতি সমূহর রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটি (ঝাড়গ্রাম জেলা শাখা)। আগামী ১৩ মার্চ রাজ্যজুড়ে ‘প্রত্যাঘাত ধর্মঘট’-এর ডাক দেওয়া হয়েছে, আর সেই আন্দোলনের সলতে পাকানোর লক্ষ্যেই এদিন ঝাড়গ্রামের রাস্তায় নামেন সরকারি কর্মচারীরা। ঝাড়গ্রামের সুভাষ পার্ক থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলে প্রায় ৮০ জন সদস্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে শামিল হন এবং শহর পরিক্রমা করে ঝাড়গ্রাম জোড়া রাস্তায় গিয়ে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষ হয়।

এদিনের মিছিল থেকে মূলত চারটি প্রধান দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। কো-অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, সুপ্রিম কোর্টের রায়কে মান্যতা দিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘভাতা (DA) অবিলম্বে প্রদান করতে হবে। এছাড়া, দীর্ঘদিনের অনিয়মিত ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং সরকারি দপ্তরের সমস্ত শূন্যপদে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে স্থায়ী নিয়োগের দাবিও জানানো হয়েছে। কর্মচারীদের আরও দাবি হলো, অবিলম্বে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করতে হবে এবং বিতর্কিত শ্রমকোড বাতিল করতে হবে। আন্দোলনকারীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সরকার তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে, যার প্রতিকারেই এই ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে।

ঝাড়গ্রাম জেলা শাখার এই প্রতিবাদী মিছিলে অংশগ্রহণকারী সদস্যরা জানান যে, আগামী ১৩ মার্চের ধর্মঘট সফল করতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। তাঁদের হুঁশিয়ারি, যদি সরকার অবিলম্বে এই চার দফা দাবি পূরণ না করে, তবে আগামী দিনে আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার ধারণ করবে। এই মিছিলকে কেন্দ্র করে আজ ঝাড়গ্রাম শহরে প্রশাসনিক তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সরকারি কর্মচারীদের এই ‘প্রত্যাঘাত ধর্মঘট’ রাজ্য সরকারের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
