নিজস্ব সংবাদদাতা : বনাধিকার আইন ২০০৬ যথাযথভাবে লাগু করার দাবিতে সোমবার ঝাড়গ্রাম শহরে এক বিশাল পদযাত্রার আয়োজন করল ‘বনাধিকার গ্রাম সভা মোর্চা’। এদিন ঝাড়গ্রাম শহরের রবীন্দ্র পার্ক থেকে এই পদযাত্রা শুরু হয়ে জেলা শাসকের দপ্তরে গিয়ে শেষ হয়। নয়াগ্রাম, বিনপুর ২, গোপিবল্লভপুর ১, ঝাড়গ্রাম এবং লালগড় ব্লক থেকে আগত ৫০০-রও বেশি গ্রাম সভার সদস্য এই কর্মসূচিতে পা মেলান। বনাধিকার আইন পাসের ২০ বছর পরেও অরণ্যের অধিকার থেকে আদিবাসী ও জঙ্গলবাসীরা কেন বঞ্চিত, সেই প্রশ্ন তুলে সংগঠনের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

মোর্চার সভাপতি সুরেন্দ্রনাথ হাঁসদা অভিযোগ করেছেন যে, ঝাড়গ্রাম জেলার ২৭টি গ্রাম সভার মধ্যে ১২টি থেকে ইতিপূর্বেই সমষ্টিগত ও ব্যক্তিগত দাবিপত্র মহকুমা শাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আজও সেই দাবির কোনো সরকারি স্বীকৃতি মেলেনি। সংগঠনের সম্পাদক বাবুলাল প্রামাণিক জানান, বনাধিকারের স্বীকৃতিপত্র না থাকায় লোধা ও শবর সম্প্রদায়ের মতো বিশেষভাবে বিপন্ন জনজাতিরা সরকারি আবাস যোজনা, কৃষি বীমা এবং কৃষক বন্ধুর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই বঞ্চনা দূর করে অবিলম্বে গ্রাম সভাগুলোকে মান্যতা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

পদযাত্রা শেষে সংগঠনের প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত জেলা শাসকের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন এবং তাঁদের দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি জমা দেন। জেলা শাসক এদিন উপস্থিত না থাকলেও অতিরিক্ত জেলা শাসক আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি এই আলোচনার নির্যাস ও দাবিগুলো দ্রুত জেলা শাসকের নজরে আনবেন। মোর্চার মূল দাবিগুলোর মধ্যে ছিল জমা পড়া বনাধিকার দাবিগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি, গ্রাম সভাকে আইনি স্বীকৃতি প্রদান এবং আদিবাসীদের মধ্যে এই আইন সম্পর্কে সরকারি উদ্যোগে ব্যাপক প্রচার চালানো।
এদিনের এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন মোর্চার সহ-সম্পাদক চৈতন বেসরা ও সহ-সভাপতি বাপি সরেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহলের বর্ষীয়ান নেতা ডাঙ্গা হাঁসদা, বনাধিকার আন্দোলনের কর্মী ঝর্ণা আচার্য, সবুজ মঞ্চের যুগ্ম-সম্পাদক শশাঙ্ক শেখর দেব, আইনজীবী শান্তনু চক্রবর্তী এবং সমাজকর্মী সৌমেন রায়। আদিবাসী ও অরণ্যবাসীদের অধিকার রক্ষার এই লড়াই আগামী দিনে আরও বৃহত্তর রূপ নেবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
