নিজস্ব সংবাদদাতা : গতকাল শুক্রবার দুপুর ১টা ২২ মিনিটে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে। ভারতের ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানকেন্দ্র বা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫। তবে মার্কিন ভূকম্প পর্যবেক্ষণকারী কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী এর মাত্রা ছিল ৫.৩। এই ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল কলকাতা থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে, বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার আশাশুলি এলাকায়, যা পশ্চিমবঙ্গের টাকি থেকে মাত্র ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ভূগর্ভের মাত্র ৯.৮ কিলোমিটার গভীরে এই কম্পনের উৎপত্তি হওয়ায় এর তীব্রতা জনমানসে প্রবলভাবে অনুভূত হয়েছে। কয়েক সেকেন্ড ধরে চলা এই কম্পনে শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণ—সর্বত্রই সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কলকাতায় ভূমিকম্পের সময় এক নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা হয়। নবান্ন সহ শহরের প্রধান প্রশাসনিক ভবন ও বহুতল অফিসগুলো থেকে আতঙ্কে কর্মীরা রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন বিধায়করাও নিরাপত্তার খাতিরে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পথচলতি অনেক মানুষ হঠাৎ মাথা ঘোরার মতো অস্বস্তি অনুভব করেন এবং পরে অন্যদের চিৎকার শুনে বুঝতে পারেন যে এটি ভূমিকম্প। শহরের জনবহুল বাজার ও শপিং মলগুলোতে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে যে, কম্পনের ফলে শহরের বেশ কিছু পুরনো বাড়ি হেলে পড়েছে বলে এলাকাবাসীরা দাবি করেছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই কলকাতা পুরসভা তদন্ত শুরু করেছে। তবে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা বিধ্বংসী ক্ষয়ক্ষতির খবর এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই এই কম্পন অনুভূত হয়েছে। দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া ও মুর্শিদাবাদে মাটি কেঁপে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। মেদিনীপুর শহরে জেলাশাসকের দপ্তরের কর্মীরা কাজ ফেলে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং সেখানেও বন্ধ থাকা সিলিং ফ্যান দুলতে দেখা গেছে। ঝাড়গ্রাম ও দুই মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন আবাসনেও ফাটল ধরার ভয়ে মানুষজন দীর্ঘক্ষণ খোলা আকাশের নীচে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের খুলনায় এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল হওয়ায় সেখানেও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ভূগর্ভস্থ টেকটোনিক প্লেটের অস্থিরতার কারণেই এই ঘনঘন কম্পন অনুভূত হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
