নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বন্টন কোম্পানির পক্ষ থেকে খড়্গপুর শহরের এক স্কুল শিক্ষিকার বিরুদ্ধে মিটার কারচুপি ও বিদ্যুৎ চুরির গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি এই মর্মে খড়্গপুর টাউন থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন বিদ্যুৎ দপ্তরের স্টেশন ম্যানেজার রাজু ঘোষ। অভিযুক্ত শিক্ষিকার নাম দীপিকা সিনহা, যিনি শহরের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাজোয়াল এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, গত সোমবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিট নাগাদ স্টেশন ম্যানেজার রাজু ঘোষ তাঁর দুই সহকর্মীকে নিয়ে দীপিকা দেবীর বাড়িতে মিটারের রুটিন চেকিং করতে যান। তল্লাশির সময় আধিকারিকরা দেখতে পান যে, ইলেকট্রিক মিটারে সুকৌশলে কারচুপি করা হয়েছে যাতে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সঠিক পরিমাণ ধরা না পড়ে। এমনকি আধিকারিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষিকা ওই কারচুপির প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টাও করেন বলে এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ দপ্তরের দাবি, এই দীর্ঘকালীন কারচুপির ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের পরই অভিযুক্তের বাড়ির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে এবং সন্দেহভাজন মিটারটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের সাথে পুলিশ বাহিনী না থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। রাজু ঘোষ তাঁর অভিযোগে আরও জানিয়েছেন যে, মিটার বাজেয়াপ্ত করার পর নিয়মমাফিক সিজার লিস্ট বা বাজেয়াপ্ত নথিতে স্বাক্ষর করার জন্য দীপিকা দেবীকে বারবার অনুরোধ করা হলেও তিনি তাতে সই করতে অস্বীকার করেন। শুধু তাই নয়, উপস্থিত স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউও ওই নথিতে সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করতে এগিয়ে আসেননি।

সমগ্র জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে অবৈধ হুকিং, মিটারে কারচুপি এবং বিদ্যুৎ অপচয় রোধে লাগাতার সচেতনতামূলক প্রচার চালানো সত্ত্বেও এই ধরণের ঘটনা প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকদের মতে, একজন শিক্ষিকার মতো দায়িত্বশীল নাগরিকের বিরুদ্ধে এই ধরণের অনৈতিক কাজে লিপ্ত হওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। পুলিশ বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। বিদ্যুৎ চুরির এই ঘটনাটি জানাজানি হতেই সাজোয়াল এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
