নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রাম বিধানসভার রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার জয়নগর গ্রামে বেহাল রাস্তা সংস্কারের দাবিতে অভিনব প্রতিবাদে শামিল হলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে পড়ুয়ারা। দীর্ঘ চার বছর ধরে গ্রামের প্রধান রাস্তাটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে থাকায় শুক্রবার সকালে জয়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা বই-খাতা নিয়ে রাস্তার ওপর বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি এতটাই খানাখন্দে ভরা যে সামান্য বৃষ্টি হলেই তা মরণফাঁদে পরিণত হয়। এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনের একাধিক স্তরে, বিশেষ করে পঞ্চায়েত প্রধান ও বিডিও-র কাছে বারবার লিখিত আবেদন জানিয়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় শেষমেষ শিশুদের পথে নামিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করার সিদ্ধান্ত নেন গ্রামবাসীরা।

এই পথ অবরোধের জেরে ওই এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ঝাড়গ্রাম থানার পুলিশ। পুলিশ আধিকারিকরা বিক্ষোভকারী ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন এবং দ্রুত রাস্তা মেরামতির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া মেলায় শেষ পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা অবরোধ তুলে নেয়। তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই বঞ্চনা আর মুখ বুজে সহ্য করা হবে না এবং দ্রুত কাজ শুরু না হলে আগামীতে আরও বড় আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। রাস্তার বেহাল দশার কারণে বিশেষ করে বর্ষাকালে অ্যাম্বুলেন্স বা জরুরি পরিষেবা পেতে গ্রামবাসীদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন।

রাস্তাটির এই শোচনীয় অবস্থার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন রাধানগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। তিনি নিজের অসহায়তা প্রকাশ করে জানান যে, ব্যক্তিগতভাবে তিনি একা এই সমস্যার সমাধান করতে পারবেন না। এই রাস্তার উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ডের আবেদন জানিয়ে তিনি ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো সদর্থক উত্তর বা বরাদ্দ মেলেনি। প্রধান আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি আবারও বিডিও এবং জেলা প্রশাসনের কাছে এই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন যাতে দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করা যায়। প্রশাসনের এই টালবাহানায় ক্ষুব্ধ জয়নগর গ্রামের সাধারণ মানুষ এখন কেবলই কাজের কাজ শুরু হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
