নিজস্ব সংবাদদাতা : ঝাড়গ্রামের পর এবার আইআইটি খড়্গপুর ক্যাম্পাসের ভেতরে অবস্থিত পাসপোর্ট কাম পোস্ট অফিসে বোমাতঙ্ক ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল। শুক্রবার বেলা ১২টা নাগাদ একটি হুমকি ইমেলকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যার জেরে দুপুর ২টো পর্যন্ত দীর্ঘ দুই ঘণ্টা যাবত পোস্ট অফিসের সমস্ত কাজ বন্ধ রাখতে হয়। খবর পাওয়া মাত্রই নিরাপত্তার খাতিরে অফিসের ভেতর থেকে সমস্ত গ্রাহক ও কর্মীদের দ্রুত বাইরে বের করে দিয়ে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। পোস্টমাস্টার সহ অন্যান্য কর্মীরাও অফিস চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। খবর দেওয়া হয় খড়্গপুর টাউন থানার অধীনস্থ হিজলি পুলিশ ফাঁড়িতে। আকস্মিকভাবে পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তির শিকার হন দূর-দূরান্ত থেকে আসা কয়েকশো গ্রাহক। কেউ জরুরি স্পিড পোস্ট করতে এসেছিলেন, আবার কেউ বা পিএলআই-র টাকা জমা দিতে। কিন্তু অফিসের গেটে তালা ঝোলা দেখে এবং বোমাতঙ্কের খবর শুনে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট এই হুমকি ইমেলটি মূলত কলকাতা রিজিওনাল পাসপোর্ট অফিসে এসেছিল। সেখানে রাজ্যের বিভিন্ন পাসপোর্ট অফিস ও পোস্ট অফিসগুলোতে নাশকতার আশঙ্কার কথা জানানো হয়। এরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে খড়গপুর আইআইটি ক্যাম্পাসে থাকা এই কেন্দ্রটিকে সতর্ক করা হয় এবং দ্রুত খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ হিজলি ফাঁড়ির পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অফিসের এক কর্মী সমরেশ উত্থাশিনী জানান যে, বেলা ১২টা নাগাদ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ওই ইমেল সম্পর্কে শোনার পরেই তাঁরা পরিষেবা বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হন। খড়্গপুর শহরের তালবাগিচার বাসিন্দা কৌশিক দেবের মতো অনেক সাধারণ মানুষই এই ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

বোমাতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পড়তেই আইআইটি ক্যাম্পাসের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়। হিজলি পুলিশ ফাঁড়ির আধিকারিকরা দীর্ঘক্ষণ পুরো চত্বরটি খতিয়ে দেখেন এবং কোনো সন্দেহজনক বস্তু রয়েছে কি না তা পরীক্ষা করেন। যদিও প্রাথমিক তল্লাশিতে কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি, তবুও দিনভর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খড়্গপুর শহরে উত্তেজনার পরিবেশ বজায় ছিল। পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ বর্তমানে খতিয়ে দেখছে যে, ঝাড়গ্রাম ও খড়্গপুরের এই ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং একই ইমেল থেকে এই হুমকি পাঠানো হয়েছে কি না। বিকেলের দিকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও এই ঘটনার রেশ সাধারণ মানুষের মনে ভীতি ধরিয়ে দিয়েছে।
