নিজস্ব সংবাদদাতা : ভারতের নির্বাচন কমিশন আজ পশ্চিমবঙ্গসহ চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণাকে ‘গণতন্ত্রের উৎসব’ হিসেবে অভিহিত করে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন যে, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পশ্চিমবঙ্গ এবং পুদুচেরির ৮২৪টি বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ করা হবে। এই বিশাল কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ১৭.৪ কোটি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় ২৫ লক্ষ নির্বাচনী কর্মী এবং ২.১৯ লক্ষ পোলিং স্টেশন মোতায়েন করা হচ্ছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার প্রতিটি রাজ্যের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি জানান যে, তামিলনাড়ু বিধানসভার মেয়াদ ১০ মে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার মেয়াদ ৭ মে, অসমের ২০ মে, কেরলের ২৩ মে এবং পুদুচেরির মেয়াদ ১৫ জুন শেষ হতে চলেছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শেষ করতেই এই সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্বাচনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞে নিরাপত্তার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিটি নাগরিক নির্ভয়ে ভোটদান করতে পারেন।

পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কমিশন দুই দফায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং দ্বিতীয় দফার ভোট নেওয়া হবে ২৯ এপ্রিল। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই নির্ঘণ্ট তৈরি করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটের নির্ঘণ্ট নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিশেষ কৌতুহল ছিল।
অসম, কেরল এবং পুদুচেরিতে আগামী ৯ এপ্রিল এক দফাতেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য তামিলনাড়ুতে ভোট নেওয়া হবে ২৩ এপ্রিল। প্রতিটি রাজ্যের ভোট গণনা বা ফল প্রকাশ হবে ৪ মে। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সমস্ত ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তার দিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন এবার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে প্রযুক্তির ওপর ব্যাপক গুরুত্ব দিচ্ছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, সমস্ত পোলিং স্টেশনে ১০০ শতাংশ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া নারী ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত বিশেষ পোলিং স্টেশনও তৈরি করা হচ্ছে। ৮২৪টি আসনে জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে আগামী ৪ মে সবকটি রাজ্যের ফলাফল একযোগে ঘোষণা করা হবে। এই ঘোষণার সাথে সাথেই সমস্ত নির্বাচনী রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হয়ে গিয়েছে।
